প্রধানমন্ত্রী বালেনকে ভর্ত্সনা করে ভারতীয় পণ্যে শুল্কে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিমকোর্টের - 24 Ghanta Bangla News
Home

প্রধানমন্ত্রী বালেনকে ভর্ত্সনা করে ভারতীয় পণ্যে শুল্কে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিমকোর্টের

Spread the love

কাঠমান্ডু: নেপালের সুপ্রিম কোর্ট একটি বড় সিদ্ধান্তে দেশের সরকারকে ভারত থেকে (Supreme Court)আনা ১০০ নেপালি রুপি (প্রায় ৬৩ ভারতীয় টাকা) মূল্যের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করতে বাধা দিয়েছে। …

কাঠমান্ডু: নেপালের সুপ্রিম কোর্ট একটি বড় সিদ্ধান্তে দেশের সরকারকে ভারত থেকে (Supreme Court)আনা ১০০ নেপালি রুপি (প্রায় ৬৩ ভারতীয় টাকা) মূল্যের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করতে বাধা দিয়েছে। শনিবার বিচারপতি হরি প্রসাদ ফুয়াল ও টেক প্রসাদ ধুঙ্গানার যৌথ বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়ে বলেছে, চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়ম কার্যকর করা যাবে না।

এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বালেন শাহ সরকারের কঠোর সীমান্ত নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারত-নেপাল সীমান্তের সাধারণ মানুষ ছোটখাটো গৃহস্থালির কেনাকাটায় অনানুষ্ঠানিক ছাড় উপভোগ করে আসছিলেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চাল, ডাল, মশলা, বিস্কুট, চিপসের মতো সাধারণ পণ্য ভারতীয় বাজার থেকে কিনে আনা তাদের জীবনের অংশ ছিল। কিন্তু বালেন শাহ সরকারের নতুন কড়া নীতিতে ১০০ নেপালি রুপির উপরে যেকোনো পণ্যে শুল্ক আরোপ শুরু হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক অসুবিধা দেখা দেয়।

আরও দেখুনঃ গোহত্যা-গোমাংস খাওয়া বন্ধের অনুরোধ নাখোদার মৌলানার

আবেদনকারীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, এই নিয়ম কাস্টমস অ্যাক্ট ২০৮১-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, বিশেষ করে ছোটখাটো কেনাকাটার ছাড় সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে। আদালত সাধারণ নাগরিকদের উপর এই ‘টার্গেটিং’-এর সমালোচনা করে বলেছে, এতে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।সীমান্তের দুই পাশের মানুষের জন্য এই নীতি বড় সমস্যা তৈরি করেছিল।

বিরগঞ্জ, ভৈরহাওয়া, বিরাটনগরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘ লাইন, কড়া তল্লাশি এবং শুল্ক আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রতিবাদও ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের কাছে ভারতীয় বাজার ছিল সস্তা ও সুবিধাজনক উৎস। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় দাম বেড়ে যায়, জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পায়।ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। দৈনন্দিন ক্রেতাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবসা মার খায়।

দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে খোলা সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কের উপরও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই একতরফা ও কঠোর নীতি ভারত-বিরোধী অবস্থানের অংশ হিসেবে নেওয়া হলেও তা সম্পূর্ণ বিপরীত ফল দিয়েছে। সীমান্তের সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নেপালের অনেক নাগরিক মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাণিজ্য সহজ করাই উচিত। ছোট কেনাকাটায় অযথা শুল্ক আরোপ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, দুই দেশের মানুষের মধ্যে দূরত্বও বাড়ায়। আদালতের এই অন্তর্বর্তী আদেশ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস এনেছে। তবে চূড়ান্ত রায় কী হবে, তা এখনো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *