বাংলায় তালা পড়বে অবৈধ মাদ্রাসায়! স্পষ্ট করলেন ক্ষুদিরাম টুডু
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের ঘোষণা করলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু (illegal madrasas)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে সব অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া …
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের ঘোষণা করলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু (illegal madrasas)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে সব অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে।” এই ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করছেন।মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “যেসব মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন ছাড়া চলছে, অস্বচ্ছভাবে অর্থায়ন হচ্ছে এবং সিলেবাসের বাইরে কার্যকলাপ চালাচ্ছে, সেগুলো আর চলতে দেওয়া হবে না।
শিক্ষার নামে কোনও ধরনের অপব্যবহার আমরা বরদাস্ত করব না।” তিনি আরও জানান, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে জেলাওয়ারি তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা দফতরের নিয়ম মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ মাদ্রাসার সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অনেক জেলায় দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামে বিনা অনুমতিতে মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে।
আরও দেখুনঃ ভারত ইলেক্ট্রনিক্সের সঙ্গে ১,৪৭৬ কোটির চুক্তিতে প্রতিরক্ষায় ইতিহাস ভারতের
সেখানে আধুনিক শিক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই, শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাঁদের সন্তানেরা সেখানে পড়ে আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজির মতো বিষয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে চাকরি বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে পড়ছে।রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
অবৈধ মাদ্রাসাগুলোতে কখনও কখনও চরমপন্থী চিন্তাধারা প্রচারের অভিযোগও ওঠে। এতে তরুণ প্রজন্মের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু অংশে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁরা চান, এই অভিযান যেন কোনও সম্প্রদায়কে টার্গেট না করে। মন্ত্রী টুডু এ বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “এটা কোনও ধর্মীয় আক্রমণ নয়।
এটা শিক্ষার মান বাড়ানোর লড়াই। যেসব মাদ্রাসা নিয়ম মেনে চলবে, তাদেরকে সরকার সাহায্যও করবে।”রাজ্য জুড়ে এখন সরকারি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষা চালাচ্ছেন। যেসব মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষকের যোগ্যতা, অবকাঠামো এবং অর্থের উৎস স্বচ্ছ নয়, সেগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো, অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুল বা অনুমোদিত মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা।