সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে জুতো পরিষ্কার করানোর হুমকি! সমাজবাদী নেতাকে ২ বছরের জেল
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ফের বড় ধাক্কা খেল সমাজবাদী পার্টি। (Azam Khan)দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খানকে ২ বছরের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল রামপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত। ২০১৯ …
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ফের বড় ধাক্কা খেল সমাজবাদী পার্টি। (Azam Khan)দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খানকে ২ বছরের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল রামপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বিতর্কিত মন্তব্য করার মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর শনিবার, ১৬ মে ২০২৬-এ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে তাঁর উপর ২০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়। রামপুরের ভোট থানা এলাকায় একটি নির্বাচনী রোড শো করছিলেন আজম খান। সেই সময় তিনি মঞ্চ থেকে তৎকালীন জেলাশাসক আঞ্জনী কুমার সিং এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষায় মন্তব্য করেন। জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এরা সব বেতনভোগী কর্মচারী, এদের ভয় পেও না। ভোটের পর এদের দিয়ে জুতো পরিষ্কার করাবো।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
আরও দেখুনঃ দেশজুড়ে বর্ষার এন্ট্রি! আজই আন্দামানে ঢুকল মৌসুমি বায়ু, বাংলায় কবে স্বস্তির বৃষ্টি?
সভাস্থলে উপস্থিত অনেকেই সেই বক্তব্য মোবাইলে রেকর্ড করেন। পরে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায়। কমিশনের নির্দেশে রামপুরের ভোট থানায় আজম খানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মীদের অপমান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়।
এরপর থেকেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে আদালত শেষ পর্যন্ত আজম খানকে দোষী সাব্যস্ত করে। শনিবার বিশেষ এমপি-এমএলএ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জানায়, জনসমক্ষে এই ধরনের মন্তব্য শুধু প্রশাসনিক আধিকারিকদের অপমান নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিও অসম্মান প্রদর্শন করে।
আদালতের রায় ঘোষণার পর সমাজবাদী পার্টির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ, আজম খান দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব যথেষ্ট। তবে বিতর্কও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নিত্যসঙ্গী। এর আগেও একাধিক মামলায় তাঁকে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এই রায় প্রমাণ করে যে আইন সবার জন্য সমান।
অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আজম খানকে টার্গেট করা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনী উত্তেজনার মাঝে দেওয়া বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। যদিও আদালত সেই যুক্তি মানেনি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২ বছরের সাজা হওয়ায় ভবিষ্যতে আজম খানের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদের বেশি কারাদণ্ড হলে জনপ্রতিনিধিদের অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনা থাকে। ফলে এই রায় শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।