সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের উপর গুলি চললে বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার হুমকি ইনকিলাব মঞ্চের
ঢাকা: সীমান্তের উত্তেজনা যেন থামতেই চাইছে না। (Inquilab Mancha)ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে অনুপ্রবেশকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের একটি উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ভয়াবহ হুমকি দিয়েছে। …
ঢাকা: সীমান্তের উত্তেজনা যেন থামতেই চাইছে না। (Inquilab Mancha)ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে অনুপ্রবেশকারী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের একটি উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ভয়াবহ হুমকি দিয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল জাবের স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “আমাদের ভাইয়েরা সীমান্তে নিহত হচ্ছে, আমরা তাদের লাশ কাঁধে করে নিয়ে আসি। আরেকটি হত্যা হলে আমাদেরকে ভারতের দিকে ১০টি লাশ পাঠাতে হবে।”
Jaber, spox for the Inqilab Manch, Bangladesh threatens India:
“Our brothers (Intruders) are killed at the border and we carry their bodies on our shoulders.
If there is another killing at the border, we will have to send 10 bodies to the other side (India)” pic.twitter.com/sZXXS5yqsQ
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) May 16, 2026
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।সম্প্রতি ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একাধিক ঘটনায় অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলি চলেছে। বাংলাদেশি কিছু যুবক সীমান্তের কাঁটাতার ভেঙে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাদের বাধা দেয়। এসব ঘটনায় কয়েকজন নিহত হয়।
আরও দেখুনঃবিরোধিতা চরমে! এবার ভারতীয় রিক্সায় নিষেধাজ্ঞা জারি নেপালের
ইনকিলাব মঞ্চ এই নিহতদের ‘ভাই’ বলে অভিহিত করে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুসারে, প্রতিটি সীমান্ত হত্যার বদলে ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে লাশ পাঠানো হবে। এমন হুমকি সরাসরি সাম্প্রদায়িক হিংসাকে উস্কে দেওয়ার শামিল।বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গত কয়েক মাসে একাধিক হিন্দু যুবক-যুবতীকে হত্যা, নির্যাতন ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে ময়মনসিংহের দীপু চন্দ্র দাসের মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ইনকিলাব মঞ্চের হুমকি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক হিন্দু পরিবার এখন ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। একজন বাংলাদেশি হিন্দু নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “আমরা তো কোনো অনুপ্রবেশ করিনি। তাহলে কেন আমাদের লাশের হুমকি? আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই।”ভারতীয় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা এই হুমকিতে ক্ষুব্ধ।
পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “আমরা তো প্রতিবেশী। কিন্তু তারা যদি এভাবে হুমকি দেয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? বিএসএফ যা করছে, তা দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব। অনুপ্রবেশকারীরা চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো স্বাভাবিক।”
কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনা গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে সূত্র বলছে, বিদেশ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিবিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের হুমকি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত এই উগ্র সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
কারণ একটি সংগঠনের মুখপাত্রের এমন বক্তব্য পুরো দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।ইনকিলাব মঞ্চ ইতিমধ্যে ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সাত দফা দাবি জানিয়েছে। তারা সীমান্ত হত্যা বন্ধ, ভারতীয় সুবিধা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি করছে। কিন্তু তাদের হুমকির ভাষা স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক প্রতিশোধমূলক। এতে করে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।