চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির চালককে দেখতে SSKM এ শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ফেলে দেওয়া চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনার মাঝেই শুক্রবার, ১৫ মে এসএসকেএম …
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন ফেলে দেওয়া চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনার মাঝেই শুক্রবার, ১৫ মে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত চালক বুদ্ধদেব বেরার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল চত্বরে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই-সহ একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সেই সফরের ভিডিও সম্প্রচারিত হয়েছে।
VIDEO | West Bengal leader Suvendu Adhikari leaves SSKM Hospital in Kolkata, where his murdered aide’s driver is being treated for severe injuries resulting from the attack.
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/n147TvrpG7)#WestBengal #Kolkata pic.twitter.com/G6AXhM2CVX
— Press Trust of India (@PTI_News) May 15, 2026
চন্দ্রনাথ রথের স্করপিও গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বুদ্ধদেব বেরা। ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় ভয়াবহ হামলার সময় দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে তিনিও গুরুতর জখম হন। তাঁর বুক, পেট ও হাতে একাধিক গুলি লাগে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও দেখুনঃ পুলিশ-অপরাধী-প্রোমোটার নিয়ে চলত শান্তনুর সিন্ডিকেট! তদন্তে ফাঁস বিস্ফোরক তথ্য
হাসপাতালে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুধু আহত চালকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেননি, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি আশ্বাস দেন যে চিকিৎসার সমস্ত খরচ দল বহন করবে এবং বুদ্ধদেব বেরার পাশে সরকার ও দল সবসময় থাকবে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি খুন নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।”
চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আপ্তসহায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনার আবহে তাঁর উপর এই হামলা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, আততায়ীরা অত্যাধুনিক গ্লক পিস্তল ব্যবহার করেছিল। শুধু তাই নয়, হামলার সময় ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
এই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে রাজ্য পুলিশ। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এবং সিআইডি যৌথ অভিযানে তিনজন পেশাদার শার্প শুটারকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এরা কনট্র্যাক্ট কিলার হিসেবে কাজ করত এবং সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
ধৃতদের মধ্যে অন্যতম বিশাল শ্রীবাস্তব, যাকে কিছু নথিতে ভিকি মৌর্য নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। সে বিহারের বক্সার জেলার পান্ডিয়াপট্টির বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই খুন, ডাকাতি-সহ ১৫টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দ্বিতীয় অভিযুক্ত রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বল্লিয়ার বাসিন্দা। তাঁকে অযোধ্যা সংলগ্ন এলাকা থেকে ট্র্যাক করে গ্রেফতার করা হয়। তৃতীয় অভিযুক্ত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্রও উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এই হামলার পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কারা এই শার্প শুটারদের ভাড়া করেছিল, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কে এবং রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।