এবার থেকে লাইভ দেখা যাবে বিধানসভা! বিরোধীদের জন্যেও বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
কলকাতা: বিধানসভার অন্দরে আর ‘গোপন’ থাকবে না জনপ্রতিনিধিদের কাজ। বিধায়কদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা আনতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার …
কলকাতা: বিধানসভার অন্দরে আর ‘গোপন’ থাকবে না জনপ্রতিনিধিদের কাজ। বিধায়কদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা আনতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে বিধানসভার প্রতিটি মুহূর্তের কাজ সরাসরি সম্প্রচার (Live Telecast) করা হবে। বাজেট পেশ থেকে শুরু করে বিল নিয়ে বিতর্ক, সবটাই এবার থেকে আমজনতার নখদর্পণে। (West Bengal Assembly Live Telecast)
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে বিধায়ক নির্বাচন করেন, কিন্তু বিধানসভার ভেতরে তাঁদের প্রতিনিধি কী কাজ করছেন, তা নিয়ে তাঁরা অন্ধকারে থাকেন।” এই ব্যবস্থার বদল আনতেই লাইভ টেলিকাস্টের সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি সম্প্রচার শুরু হলে বিধানসভায় বিধায়কদের উপস্থিতি ও আচরণের ওপর এক ধরণের ‘জন-নজরদারি’ তৈরি হবে, যা আদতে সংসদীয় গরিমাকেই বৃদ্ধি করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর তুরুপের তাস: একনজরে বড় ঘোষণাগুলি
- চিঠির উত্তর ও সৌজন্য: বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “আগে আমরা চিঠি দিলে উত্তর মিলত না। কিন্তু এবার আপনারা আমাকে চিঠি দিন, আমি উত্তর দেব।” এমনকি এলাকায় মন্ত্রীরা গেলে স্থানীয় বিধায়ককে (তিনি যে দলেরই হোন না কেন) আগাম জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- ডিজিটাল সংস্কার ও নয়া ভবন: বর্তমান বিধানসভা ভবনের পরিকাঠামোয় বেশ কিছু খামতি রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ডিজিটাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করার স্বার্থে এবং ভবিষ্যতে আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে একটি নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
- শালীনতা ও সংবিধান: বিধানসভাকে ‘মারামারি করার জায়গা’ না বানিয়ে সংবিধানসম্মতভাবে চালানোর ওপর জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট বলেন, পুরনো তিক্ততা ভুলে সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
বিরোধীদের জন্য ‘মুক্ত হাওয়া’
শুভেন্দু অধিকারীর এদিনের বক্তৃতায় অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বিরোধীদের গুরুত্ব প্রদান। তিনি জানান, বিরোধীদের জন্য বলার সময় বাড়ানো হবে এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা হবে। বিধানসভার পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি সরিয়ে রেখে এক ‘নতুন যুগের’ সূচনা করার ডাক দেন তিনি।
নির্বাচন-পরবর্তী উত্তপ্ত আবহের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘রিফর্মিস্ট’ বা সংস্কারপন্থী অবতার রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।