কোনও সরকার শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়?
রাষ্ট্র নীরব
পুঁজির স্বার্থে শ্রমিকের মজুরি কমিয়ে রেখে মুনাফা বাড়ানোর সুপ্রাচীন কৌশল যদি রাষ্ট্র নিজেই এখন নিতে থাকে, তা হলে শ্রমিকদের বাঁচাবে কে? এই প্রশ্ন এখন উঠছে, কারণ দেশের নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ব্যাপারে সরকার আশ্চর্য রকম উদাসীন। শিল্প শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির জন্য কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (ইনডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার) অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতির হার হিসেব করে শ্রমিকদের বেতন স্থির করার কথা। তার জন্য ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছে ২০১৬ সাল। যে খুচরো পণ্যের মূল্য সূচক বৃদ্ধির ভিত্তিতে এই মজুরি বৃদ্ধির কথা, তাতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারের উচিত ছিল ২৪-২৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা, অথচ সেটা করা হয়নি। মানেসর ও নয়ডা, যেখানে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নিরিখে এই কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (ইনডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার) ছিল ২৭.৯ শতাংশ ও ২৭.৪ শতাংশ, অথচ সরকারের পক্ষ থেকে হরিয়ানায় ১৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ২৭৫ টাকা! উত্তরপ্রদেশে ২৪.৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৯,০৭৮ থেকে করা হয়েছে ১১ হাজার ৩১৩ টাকা। খাস দিল্লিতে ২০.৬ শতাংশ বাড়িয়ে করা হলো ১৫ হাজার ৩১০ টাকা থেকে ১৮ হাজার ৪৫০ টাকা। সর্বত্রই সরকার বলে তারা ভালো রাখবে, কিন্তু যে অর্থ বাড়ানো হলো, তাতে নুন আনতে পান্তা ফুরোবে। পাঁচজনের সংসার এই টাকায় চলে? অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য সরকারের দায় এটুকুই, অথচ তারা না থাকলে চলে না কারখানা, গড়ে ওঠে না হাইরাইজ়, সেতু, রাস্তা! দেশ গড়ছে যারা, তাদেরই ক্ষুধায় রেখে উন্নত অর্থনীতি গড়বে সরকার?