বিজেপি প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগে সাসপেন্ড বারুইপুর থানার ওসি সমর দে
কলকাতা: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। (Baruipur IC)তার মধ্যেই এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিত …
কলকাতা: নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। (Baruipur IC)তার মধ্যেই এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিত পালকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্থার অভিযোগে বারুইপুর থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ সমর দে-সহ মোট তিন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, গত ৫ মে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বারুইপুর পশ্চিম এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সময় বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে পুলিশ ঘিরে ধরে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, কোনও উসকানি ছাড়াই পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের প্রার্থীকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। শুধু তাই নয়, তাঁকে জোর করে একটি পুলিশ গাড়িতে তোলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ আরামবাগে তৃণমূল পার্টি অফিসে পুলিশি অভিযান! মিলল জবকার্ড-সাদা থান
ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন। ভিডিওতে বারুইপুর থানার আইসি সমর দে-কে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বলে দাবি বিজেপির। পাশাপাশি আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মীকেও সেখানে দেখা যায়, যাঁদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে “গণতন্ত্রের উপর হামলা” বলে দাবি করে সরব হয়। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমিয়ে রাখতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব দ্রুত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে।
বাড়তে থাকা বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ করে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। বারুইপুর থানার আইসি সমর দে, এসআই সুকুমার রুইদাস-সহ মোট তিন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং পুলিশের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ তৈরি হয়েছে এবং সেখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, গোটা ঘটনা একপাক্ষিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।
বিশ্বজিৎ পাল এই ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বলেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে অপমান করা হয়েছে এবং একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে পুলিশের এই আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।