দ্রাবিড় রাজনীতির অবসান, নাকি নয়া দিশা?
রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁদের সম্পর্কে অনেক খারাপ কথা প্রায় প্রবাদের মতো চালু আছে। এটা ঠিক— এ দেশে রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁদের বড় অংশেরই এমন সুনাম নেই যে তাঁরা জীবনের অন্য ক্ষেত্রেও সাফল্যের সঙ্গে কোনও অবদান রেখেছেন। মেঘনাদ সাহা, বিধান রায়, শঙ্কর সেন, মনমোহন সিং, অরুণ জেটলি, ভগবন্ত সিং মান, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মহুয়া মৈত্রদের মতো নিজেদের সফল পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা মানুষের সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে। অন্য ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে রাজনীতিতে আসা স্বাধীনতার পর ফের নতুন করে শুরু হয় রাজীব গান্ধীর সময় থেকে। এই ধরনের রাজনীতিবিদদের মধ্যে আজ এই দলে, কাল ওই দলে চলে যাওয়ার ঘটনা কম ঘটতে দেখা যায়। জোসেফ বিজয় তুলনায় কম বয়সে চলচ্চিত্রে আকাশ ছোঁয়া সাফল্যের প্রমাণ দিয়ে এসেছেন রাজনীতিতে। এসেই কাঁপিয়ে দিয়েছেন দক্ষিণের রাজনীতির মঞ্চ। এর আগে এন টি আর, এম জি আর, জয়ললিতাকে দেখেছি সিনেমা-জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসতে। করুণানিধিরও স্ক্রিপ্ট রাইটার এবং সাহিত্যিক হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। উদয়নিধি স্ট্যালিনও ইতিধ্যেই সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ফলে বিজয় ব্যতিক্রমও নয়। ব্যতিক্রম একটাই— ফের অনেক দিন পর সফল ভাবে এমন ঘটল।
তামিলনাড়ুর ভোটারদের কাছে গত প্রায় ছয় দশক ধরে পছন্দের তালিকাটা ছিল খুবই সীমিত: হয় ডিএমকে নয়তো এআইডিএমকে। রজনীকান্ত, কমল হাসানের মতো সুপারস্টারেরা তামিল রাজনীতিতে এসেছেন, তবে তাঁরা খুব একটা সফল হননি। বিজেপি চেষ্টা করেছিল টিভিকে-র সঙ্গে বোঝাপড়া করতে। বিজয় রাজি হননি। কেউ কেউ বলছেন বটে বিজয়-এর এই জয়ে দ্রাবিড় রাজনীতির শেষ হল। এটা ভুল ধারণা। বরং বলা যায় বিজয় দ্রাবিড় রাজনীতির মোড়কটা শুধু পরিবর্তন করেছেন। পারিবারিক সম্পত্তি হয়ে ওঠা দুই দ্রাবিড়-দলকে ভোট দিতে দিতে তামিলবাসীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। বিজয় সেখানে আলো-হাওয়া আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনটে দ্রাবিড়ীয় রাজনৈতিক দলই কি থাকবে ভবিষ্যতে? মনে হয় থাকবে। কিন্তু যে কোনও একটি দলের গুরুত্ব কমে যাবে। বা নতুন জোট হতে পারে। এ বারই প্রায় অবিশ্বাস্য ভাবে ডিএমকে-এআইডিএমকে জোটের কথা শোনা যাচ্ছিল। সেই ভাবনা আগামী পাঁচ বছরে কোন পথে হাঁটবে, সেটা এখনই বলা কঠিন।