পাক ঘাঁটিতে ইরানি যুদ্ধবিমান! মধ্যস্থতাকারী শরিফ সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
ওয়াশিংটন: ওয়াশিংটনের কাছে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী৷ অন্যদিকে গোপনে শত্রু দেশ ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দেওয়া৷ ‘দ্বিচারিতা’ করছে পাকিস্তান? এমনই বিস্ফোরক দাবি করল আমেরিকা। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর …
ওয়াশিংটন: ওয়াশিংটনের কাছে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী৷ অন্যদিকে গোপনে শত্রু দেশ ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে আশ্রয় দেওয়া৷ ‘দ্বিচারিতা’ করছে পাকিস্তান? এমনই বিস্ফোরক দাবি করল আমেরিকা। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য মার্কিন বিমান হামলা থেকে বাঁচাতে ইরান তাদের বেশ কিছু সামরিক ও নজরদারি বিমান পাকিস্তানের এয়ারফিল্ডগুলোতে লুকিয়ে রেখেছে। (US claims Iran hid military aircraft at Pakistan)
মার্কিন আধিকারিকরা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, তেহরান তাদের একাধিক বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির কাছে ‘নূর খান’ বিমান ঘাঁটিতে পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি RC-130 নজরদারি বিমানও রয়েছে বলে অভিযোগ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি পাকিস্তানের সামরিক সদর দপ্তরের কাছে অবস্থিত এবং ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় এটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, ইরানের সামরিক সম্পদ রক্ষা করতেই এই গোপন বোঝাপড়া।
ইসলামাবাদের সাফাই
পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। এক বরিষ্ঠ পাকিস্তানি আধিকারিক পাল্টা যুক্তিতে জানিয়েছেন, “নূর খান ঘাঁটি শহরের একদম প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। সেখানে যদি বিশাল কোনো বিমানবাহিনী রাখা হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের নজর এড়ানো অসম্ভব।” পাকিস্তানের দাবি, তারা কেবল শান্তি রক্ষার চেষ্টা করছে।
আফগানিস্তান যোগ ও তালিবানি বয়ান
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ইরান তাদের কিছু অসামরিক বিমান প্রতিবেশী আফগানিস্তানেও পাঠিয়েছে। কাবুলের এক বিমান আধিকারিক জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর ঠিক আগে ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর একটি বিমান কাবুলে অবতরণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের সঙ্গে তালিবান সরকারের সংঘাতের জেরে বিমানটি নিরাপত্তার খাতিরে ইরান সীমান্তের কাছে হেরাত বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
কূটনৈতিক দড়িটান
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে এক কঠিন কূটনৈতিক দড়িটান দিয়ে চলছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সুনজরে থাকা, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরান এবং তেহরানের প্রধান সহযোগী চীনকে চটাতে না চাওয়া, এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদ আসলে ইরানের ‘নিরাপদ ঢাল’ হওয়ার চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।