ভারতে চিকিৎসার ভিসা পেলেন পাকিস্তানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার কারিনা কায়সার
নয়াদিল্লি: ঢাকায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা বিতর্কিত বাংলাদেশি ইনফ্লুয়েন্সার কারিনা কায়সার ভারতের ভিসা পেয়েছেন (Karina Qaiser)। চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। …
নয়াদিল্লি: ঢাকায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা বিতর্কিত বাংলাদেশি ইনফ্লুয়েন্সার কারিনা কায়সার ভারতের ভিসা পেয়েছেন (Karina Qaiser)। চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গুরুতর লিভার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কারিনা কায়সার বাংলাদেশে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী। হাস্যরসাত্মক ভিডিও এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত তিনি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে তিনি বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। ২০২৪ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কারিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাটে তাঁরা জড়িত ছিলেন।
আরও দেখুনঃ বন্ধ হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? সামাজিক প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এরপর থেকে কারিনা ভারত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণাত্মক প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। অনেকে তাঁকে পাকিস্তানপন্থী ও ভারতবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে চিহ্নিত করেন।এমন একজন ব্যক্তির ভারতে চিকিৎসার জন্য ভিসা পাওয়া নিয়ে দুই দেশের নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন যিনি ভারতের বিরুদ্ধে অবিরাম বিষোদ্গার করেছেন, তাঁকে কেন ভারতের মাটিতে চিকিৎসা দেওয়া হবে?
কেউ কেউ এটিকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করলেও, অধিকাংশই এই সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত মনে করছেন।পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কারিনা গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা জানান, হেপাটাইটিস এ ও ই-এর কারণে তাঁর লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় পরিবার চেন্নাইয়ের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতীয় ভিসা অনুমোদনের পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এই ঘটনা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
কারিনার সমর্থকরা বলছেন, চিকিৎসা মানবিক বিষয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে। অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করছেন, যাঁরা দেশের সীমান্তের ওপারের প্রতি শত্রুতা প্রচার করেছেন, তাঁদের জন্য ভারতের দরজা খুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ২০২৪-এর রাজনৈতিক অস্থিরতায় কারিনার ভূমিকা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে।