Tarunjyoti Tewari: ঋজু-কোহিনুরদের মেরুদন্ডহীন কটাক্ষ তরুণজ্যোতির
কলকাতা: রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। সরকারে এখন ডবল ইঞ্জিন। (Tarunjyoti Tewari)এই আবহেই উল্টো সুর গাইছেন একের পর এক তৃণমূলের হেভিওয়েট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভোল বদলানো নেতাদের মেরুদন্ডহীন বলে …
কলকাতা: রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। সরকারে এখন ডবল ইঞ্জিন। (Tarunjyoti Tewari)এই আবহেই উল্টো সুর গাইছেন একের পর এক তৃণমূলের হেভিওয়েট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ভোল বদলানো নেতাদের মেরুদন্ডহীন বলে কটাক্ষ করেছেন রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভার বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। ফল প্রকাশের পর থেকেই বেসুরো হয়েছিলেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুখপাত্র ঋজু দত্ত, ছাত্র পরিষদের নেতা কোহিনুর মজুমদার এবং মুখপাত্র কার্তিক ঘোষ। এদের প্রত্যেককেই বহিস্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এদের নিয়েই মুখ খুললেন তরুণজ্যোতি।
তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতা হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু তথাকথিত নেতা ও মুখপাত্রের “আসল চরিত্র” সামনে চলে এসেছে। তাঁর দাবি, যারা এতদিন বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন, অপমান করেছেন, তারাই এখন নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিজেপির কাছে ভালো মানুষ সাজতে চাইছেন। বিজেপি বিধায়কের কথায়, “বিরোধী রাজনীতি করতে মেরুদণ্ড লাগে। কিন্তু এদের অনেকেই চিংড়ি মাছের মতো মেরুদণ্ড নেই, মাথা ভর্তি নোংরা, কিন্তু ক্ষমতার বাজারে দাম ভাল।”
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বহু নেতার অবস্থান বদল এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি দলের ভিত দুর্বল হলে অনেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। তরুণজ্যোতির বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
আরও দেখুনঃ ক্ষমতার অদলবদল! মমতার সহকারী সচিবকে উত্তরবঙ্গে বদলি, শুভেন্দুর টিমে ‘বিদ্রোহী’ সুরজিৎ
তবে একই সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন। বিজেপি বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো তৃণমূল নেতা বা কর্মী অসুরক্ষিত থাকবেন না এবং কারও উপরে আক্রমণ করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জায়গায় বিজেপি বিশ্বাস করে না। কিন্তু যারা নিজের স্বার্থে নিজেদের দলকেও “বিক্রি” করতে পারেন, তাদের উপর আস্থা রাখা কঠিন। এমন মানুষদের বিশ্বাস করা “সাপকে বিশ্বাস করার সমান” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তরুণজ্যোতির এই বক্তব্য শুধুমাত্র কয়েকজন বহিষ্কৃত নেতাকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং পালাবদলের পরে বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কোন নেতা কোন শিবিরে থাকবেন, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা চলছে। আর সেই আবহেই বিজেপির তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, শুধুমাত্র সুবিধাবাদী রাজনীতির জন্য দলবদলকারীদের সহজে গ্রহণ করা হবে না।