রাজস্থানে ‘ফাঁস’ হওয়া গেজ পেপারেই মিলল ১৪০টি প্রশ্ন!
জয়পুর: ২০২৪ সালের স্মৃতি উসকে দিয়ে নিট (NEET UG) ২০২৬ পরীক্ষাতেও দুর্নীতির কালো মেঘ। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার …
জয়পুর: ২০২৪ সালের স্মৃতি উসকে দিয়ে নিট (NEET UG) ২০২৬ পরীক্ষাতেও দুর্নীতির কালো মেঘ। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই একটি হাতে লেখা ‘গেজ পেপার’ ছড়িয়ে পড়েছিল সিকর (Sikar) এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই প্রশ্নপত্রের ১৪০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। ৭২০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্নের এই অভূতপূর্ব মিল নিছক ‘কাকতালীয়’ নাকি বড় কোনো চক্রান্ত, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।(Rajasthan SOG probes NEET UG 2026 paper leak)
তদন্তে জানা গিয়েছে, ১ মে সিকর এলাকায় প্রথম এই প্রশ্নপত্রটি দেখা যায়। শুরুতে একেকজন ছাত্রের কাছে ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামে এটি বিক্রি করা হয়েছিল। পরীক্ষার আগের রাতে এক একটি কপির দাম নেমে দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকায়। শুধু প্রশ্ন নয়, এমনকি উত্তরের অপশনগুলোর ক্রম পর্যন্ত মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
কেরল-রাজস্থান যোগসূত্র
তদন্তের জাল ছড়িয়েছে কেরল পর্যন্ত। SOG সূত্রে খবর, চুরু-র বাসিন্দা জনৈক এমবিবিএস ছাত্র, যিনি বর্তমানে কেরলের একটি মেডিকেল কলেজে পড়ছেন, তিনিই ১ মে প্রথম এই নথিটি সিকরের এক বন্ধুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। এরপর কোচিং নেটওয়ার্ক, ক্যারিয়ার কাউন্সিলর এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মোবাইল চ্যাট থেকে ‘ফরোয়ার্ডেড মেনি টাইমস’ ট্যাগযুক্ত এই প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এনটিএ (NTA)-র প্রতিক্রিয়া
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) ১০ মে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা রাজস্থান পুলিশের এই তদন্ত সম্পর্কে অবগত। পরীক্ষার চার দিন পর তারা প্রথম ‘অনিয়মের’ খবর পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তা জানায়। এনটিএ-র দাবি, তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সঙ্গেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুনরাবৃত্তি হচ্ছে ২০২৪-এর?
২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এবং নম্বর বৃদ্ধি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যদিও শীর্ষ আদালত তখন পুরো পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দেয়নি, তবে এনটিএ-র কাজের পদ্ধতিতে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২৬-এ ফের একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।