নক্ষত্রের পতন নয়, ‘হিংস্র যুদ্ধের’ ফলে তৈরি হচ্ছে মহাকাশের বিশাল ব্ল্যাক হোল
Black Holes: মহাবিশ্ব বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে চলেছে। আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যত বেশি তথ্য সংগ্রহ করছি, ততই নতুন নতুন রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু ব্ল্যাক …
Black Holes: মহাবিশ্ব বিজ্ঞানীদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে চলেছে। আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে যত বেশি তথ্য সংগ্রহ করছি, ততই নতুন নতুন রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন। নতুন গবেষণায় জানা গেছে যে, বিশাল ব্ল্যাক হোলগুলো কোনো একটি নক্ষত্রের মৃত্যুর ফলে নয়, বরং বারবার প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে গঠিত হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, ছোট ছোট ব্ল্যাক হোলগুলো একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ধীরে ধীরে বড় ও আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যার ফলে মহাকাশে মহাজাগতিক দানব অর্থাৎ বড় ব্ল্যাক হোল গঠিত হয়।
এতদিন পর্যন্ত বিশ্বাস করা হতো যে, যখন কোনো বিশাল নক্ষত্র ধ্বংস হয়ে যায়, তখন তা সংকুচিত হয়ে একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা এই পুরনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, মহাবিশ্বের বৃহত্তম ব্ল্যাক হোলগুলো কোনো একটি নক্ষত্রের পতনের ফলে নয়, বরং একটি ভয়াবহ শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে—অর্থাৎ ধারাবাহিক ও বারবার সংঘর্ষের ফলে—গঠিত হয়।
হিংস্র একীভূতকরণ শৃঙ্খলের পেছনের সত্যটা কী?
কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণায় জানিয়েছেন যে, এই অতিবৃহৎ কৃষ্ণগহ্বরগুলো গ্লোবুলার ক্লাস্টার বা নক্ষত্রের ঘন গুচ্ছের মধ্যে গঠিত হয়। এই অঞ্চলগুলো মহাকাশের সবচেয়ে জনাকীর্ণ অংশ, যেখানে মহাকর্ষের কারণে লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র একটি ছোট গোলকের মধ্যে আটকা পড়ে থাকে। এই ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে কৃষ্ণগহ্বর একা থাকতে পারে না। তারা ক্রমাগত একে অপরের কাছে আসে, সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং একীভূত হয়ে আরও বড় কৃষ্ণগহ্বর গঠন করে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘হিংস্র একীভূতকরণ শৃঙ্খল’ (Violent Merger Chain)।
ব্ল্যাক হোল দুই প্রকারের হয়
বিজ্ঞানীরা লাইগো-ভার্গো-কাগরা দ্বারা রেকর্ড করা ১৫৩টি ব্ল্যাক হোল একীভূত হওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণায় ব্ল্যাক হোলের দুটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী উন্মোচিত হয়েছে:
সাধারণ ব্ল্যাক হোল
এগুলো ভরের দিক থেকে হালকা এবং ধীরে ঘোরে। সাধারণত নক্ষত্রের বিলুপ্তির ফলে এদের সৃষ্টি হয়।
মহাজাগতিক দানব
এই কৃষ্ণগহ্বরগুলো অত্যন্ত বিশাল এবং এদের ঘূর্ণন গতি খুব বেশি। এই অদ্ভুত গতিবিধি থেকে ধারণা করা হয় যে, কয়েকটি ছোট কৃষ্ণগহ্বরের একীভূত হওয়ার ফলে এগুলো গঠিত হয়েছে।
ভর ব্যবধানের রহস্য
বিজ্ঞানে, ভর ব্যবধান বলে একটি বিষয় আছে, যা একটি কৃষ্ণগহ্বরের সেই ভরকে বোঝায়, যে ভরের নক্ষত্রের পক্ষে সরাসরি কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হওয়া অসম্ভব। তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন খুব বিশাল ভরের নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়, তখন সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
কিন্তু এই গবেষণায় সূর্যের ভরের চেয়ে ৪৫ গুণ বেশি ভরের এমন কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কৃত হয়েছে, যা এই ফাঁকের মধ্যেই এঁটে যায়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এগুলো সরাসরি নক্ষত্র থেকে তৈরি হয়নি, বরং ছোট ছোট কৃষ্ণগহ্বরের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
এই আবিষ্কারটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন এটা স্পষ্ট যে, কৃষ্ণগহ্বর শুধু একটি নক্ষত্রের শেষ পরিণতি নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘ বিবর্তন প্রক্রিয়ার অংশ।