মাধ্যমিকে সফল পাঁচ, বিলুপ্তপ্রায় বিরহোড়দের উঠোন জুড়ে আলো - 24 Ghanta Bangla News
Home

মাধ্যমিকে সফল পাঁচ, বিলুপ্তপ্রায় বিরহোড়দের উঠোন জুড়ে আলো

Spread the love

প্রশান্ত পাল, পুরুলিয়া

জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রাম ভূপতিপল্লি। অযোধ্যা পাহাড় লাগোয়া এই গ্রাম বিলুপ্তপ্রায় জনজাতি বিরহোড়দের গ্রাম বলে পরিচিত, জঙ্গলই যাঁদের জীবন ও জীবিকা। সেই গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছচ্ছে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে। এ বার বিরহোড় জনজাতির পাঁচ কিশোর-কিশোরী একসঙ্গে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এই পাঁচ জনের মধ্যে ভারতী শিকারি ও ববি শিকারি পাশ করেছে বাঘমুন্ডির ধসকার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয় থেকে। লক্ষ্মীমণি শিকারি বাঘমুন্ডি গার্লস হাইস্কুল এবং শিশুপাল শিকারি পাশ করেছে ঝালদা সত্যভামা বিদ্যাপীঠ থেকে। অঞ্জলি শিকারি উত্তীর্ণ হয়েছে ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুরের একটি স্কুল থেকে। এটা রেকর্ড। প্রত্যন্ত এই জনপদ থেকে মাধ্যমিকে একসঙ্গে পাঁচ জনের সাফল্যের নজির নেই।

শৈশবেই বাবা রঙ্গলাল শিকারিকে হারিয়েছিল তিন ভাইবোন দিবিয়া, ভারতী ও বুদ্ধদেব। কিছু দিন পরে মা তিরিয়া শিকারিরও মৃত্যু হয়। সেই থেকে অনাথ তিন ভাইবোনের

দিনযাপন সম্পর্কে দাদা-বৌদির কাছে। গত বছর মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে দিবিয়া, এ বার ভারতী। তার কথায়, ‘বাবার যখন মৃত্যু হয়, আমি তখন খুবই ছোট। মা বলত, আমার কষ্ট হলেও তোদের পড়াশোনা করতেই হবে। দিদি একাদশে পড়ছে। আমিও দিদির সঙ্গেই পড়ব।’ ভারতীর বৌদি সুনীতা শিকারি বললেন, ‘ওদের ভাই তো পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। আমি দুই বোনের পাশে আছি।’

এই গ্রামেরই বাসিন্দা রতন শিকারির মেয়ে লক্ষ্মীমণিও দিদি কিরণমালার পথ ধরে পেরিয়েছে মাধ্যমিকের গণ্ডি। তাঁর কথায়, ‘দিদি দ্বাদশে পড়ছে ঝালদার কুটিডি হাইস্কুলে। আমিও দিদির স্কুলেই ভর্তি হব।’ ববির বাবা পাণ্ডু শিকারি বললেন, ‘আমি প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরইনি। আমাদের বংশে প্রথম মাধ্যমিক পাশ করল ববি।’ শিশুপাল জানাল, ‘আমার বাবা দিনমজুর। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। মা নিরক্ষর। দাদা মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক। আমি পড়াশোনা করতে চাই।’

আর অঞ্জলির কাকু কাঞ্চন শিকারি জানালেন, তাঁদের পরিবারে এই নিয়ে দু’জন মাধ্যমিক পাশ করল। প্রথম জন তিনি নিজেই। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ভূপতিপল্লি থেকে প্রথম দু’জন মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছিল। একজন কাঞ্চন ও আর একজন সীতারাম শিকারি।

এই পাঁচ জনের মধ্যে ভারতী ও লক্ষ্মীমণি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে নার্স হতে চায়। পেশায় শিক্ষক জলধর কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন বিরহোড় জনজাতি নিয়ে। তিনি বললেন, ‘গঙ্গা শিকারি নামে এই সম্প্রদায়ের একটি মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলকাতায় নার্সিং পড়ার সুযোগ পায়। সবাই ওর মতোই হতে চায়।’ তবে বাকি তিন জন ববি, শিশুপাল ও অঞ্জনি ভবিষ্যতে কী হবে, ভেবে উঠতে পারেনি।

তাতে কী! ধসকার পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সৌরভ দত্ত বললেন, ‘ওরা অন্যদের কাছে পথপ্রদর্শক হয়ে উঠছে।’ জলধরেরও কথায়, ‘বছর কুড়ি-বাইশ আগেও তো বিরহোড়দের ঠিকানা ছিল জঙ্গল। এখন দরকার ওদের পাশে দাঁড়ানো।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *