কান-এ ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার ‘পেড় চলতা হ্যায়’-এর
কান চলচ্চিত্র উৎসবের মার্শে দ্যু ফিল্ম-এ ১৪ মে দেখানো হবে ‘পেড় চলতা হ্যায়’ ছবিটি। পরিচালনা করেছেন দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘পেড় চলতা হ্যায়’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, এটি ঝাড়খণ্ডের অরণ্যভূমি থেকে উঠে আসা এক নীরব অথচ গভীর আবেদন। এ বার সেই স্থানীয় গল্পই পৌঁছতে চলেছে বিশ্বমঞ্চে। দেবাদিত্যর কথায়, ‘‘পেড় চলতা হ্যায়’ কখনও শুধুমাত্র একটি সিনেমা হিসেবে ভাবা হয়নি। কাজটা শুরু হয়েছিল এক ধরনের অস্বস্তি থেকে। আমরা যে ভাবে বনভূমির সঙ্গে আচরণ করি, তার পরে সব ভুলে এগিয়ে যাই, সেটাই মূল গল্প। পালামৌ-তে শুটিং করার সময়ে বনকে কখনও লোকেশন বলে মনে হয়নি। অরণ্য এখানে একটি চরিত্র। সে কথা মাথায় রেখেই ছবিটা তৈরি করেছি।’
ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জুড়ে শুট হওয়া এই ছবিতে ধরা পড়েছে প্রকৃতির অনাঘ্রাত সৌন্দর্য। জল, জঙ্গল, জমি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছবির মূল সুর হলেও, কোথাও কোনও বাড়াবাড়ি বক্তব্য রাখেননি বলে জানালেন পরিচালক। তাঁর মতে, ছবিটি দর্শককে অনুভব করার জায়গা দেয়। এই ছবির ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার অভিনেতা অমিত বেহল। তাঁর কথায়, ‘এই ছবিতে কোনও নয়েজ় নেই। ধীরে-ধীরে দর্শকের মনের ভিতরে ঢুকে যায় ছবির বক্তব্যটা। কান-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছনো মানে ছোট্ট এক অঞ্চলের গল্প বিশ্বদরবারে পৌঁছে যাওয়া।’ পুলক দাসের মূল গল্পকে হিন্দিতে রূপ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এটা শুধু চিত্রনাট্য নয়, একটা অনুভূতি। সাংবাদিক হিসেবে এতদিন বাস্তবকে তুলে ধরেছি। কিন্তু এই ছবিতে চেষ্টা করেছি অনুভবকে ধরতে। এখানে বন কোনও প্রতীক নয়, সে নিজেই এক সাক্ষী।’ ছবিতে অভিনয় করেছেন বীরেন্দ্র সাক্সেনা, প্রমোদ পাঠক, কুমার সৌরভ, সতেন্দ্র সোনি, মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রয়েছেন পালামৌ-র ৫০ জনেরও বেশি স্থানীয় শিল্পী। সঙ্গীত পরিচালনা আনন্দ ভাস্করের এবং একটি বিশেষ গান গেয়েছেন বিজয় বর্মা। বীরেন্দ্রর কথায়, ‘এই ছবির গল্পটা সত্যিটাই আমাকে টেনেছিল। বাস্তব লোকেশন আর স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছবিটাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।’ অভিনেতা প্রমোদ পাঠক বলেন, ‘এই ছবি কোনও কিছু বোঝানোর চেষ্টা করে না। শুধু অনুভব করায়। আর সেই সততাই দর্শকের মনে দাগ কাটবে।’
ছবির কেন্দ্রে রয়েছে এক গভীর প্রশ্ন, আমরা যে গাছ কাটি, যে মাটিকে ক্ষতবিক্ষত করি, যে বনকে অবহেলা করি, যদি একদিন তারাই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে? এই ভাবনার সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে একটি পরিবেশ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতা। সংস্থার তরফে অনুষা শ্রীনিবাসন আইয়ার বলেন, ‘দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই ছবির মাধ্যমে শুধু পরিচালনা করেননি, তিনি প্রকৃতির নীরবতা ও স্মৃতিকে শুনেছেন। আর অমিত বেহলের সৃজনশীল সহযোগিতায় ছবিটি আরও সুন্দর হয়ে উঠেছে।’
—দেবলীনা ঘোষ