তৃণমূলকে টক্কর দিতেআদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়া সমীকরণে সাজছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা - 24 Ghanta Bangla News
Home

তৃণমূলকে টক্কর দিতেআদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়া সমীকরণে সাজছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা

Spread the love

বাংলার রাজনীতিতে নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল …

বাংলার রাজনীতিতে নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও নজরকাড়া। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর শপথই নয়, একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

এই শপথগ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। তাঁদের উপস্থিতি কার্যত এই নতুন সরকারের প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থনের বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে বিজেপি যে বিশেষ কৌশল নিয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রথম দিনই। দলীয় সংগঠন, সামাজিক সমীকরণ এবং ভোটব্যাঙ্কের ভারসাম্য সবকিছুই মাথায় রেখে বেছে নেওয়া হয়েছে মন্ত্রীদের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বঙ্গ বিজেপির উত্থানের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত। একসময় আরএসএস প্রচারক থেকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি হয়ে ওঠা দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক যাত্রা রাজ্যে বিজেপির ভিত্তি শক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফ কিছুটা থমকে গিয়েছিল, তবে নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি আবারও তাঁকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই মন্ত্রিসভার অন্যতম চমক ছিলেন ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য রাজনীতিতে তেমন পরিচিত মুখ না হলেও তিনি আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। রানিবাঁধের বিধায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহলের মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন। এদিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে অলচিকি ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন তিনি, যা এক অনন্য মুহূর্ত হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছে। তাঁর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিজেপি আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরেক গুরুত্বপূর্ণ নাম অশোক কীর্তনিয়া। বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা বরাবরই চর্চার কেন্দ্রে থেকেছে, বিশেষ করে নাগরিকত্ব ইস্যুতে তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেও, বিজেপি তাঁকে মন্ত্রী করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে মতুয়া সমাজকে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। এর আগে ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল দল। এবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় অশোক কীর্তনিয়ার অন্তর্ভুক্তি সেই রাজনৈতিক কৌশলেরই ধারাবাহিকতা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *