যে বনমালীকে ছাড়া এক মুহূর্ত চলত না রবীন্দ্রনাথের
বনমালীর আপদে-বিপদে, সহায়-সম্বলে রবীন্দ্রনাথ যেমন সব সময়ে পাশে ছিলেন, বনমালীও সর্বদা বাবামশায়ের সঙ্গে থাকতেন। তাঁর ঘরের বাইরে শুয়ে থাকতেন, যাতে রাতে কোনও প্রয়োজনে তিনি বাবামশায়ের কাজে লাগতে পারেন। কবির গভীর অসুখে বনমালীও বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁর অবস্থা ভালো নয়। কবির শেষ রোগশয্যায় দিনরাত ছায়ার মতো ঘিরে রেখেছিলেন বাবামশায়কে। অবশেষে, ‘নীলমণি’ ডাক, হাসি-ঠাট্টা, বকাবকি, সব কিছু চিরদিনের মতো শেষ হয়ে গেল ২২ শ্রাবণ। বনমালী দূরে এককোণে দাঁড়িয়ে শুধু নীরবে চোখের জল ফেলেছে। বনমালী আর জোড়াসাঁকোয় থাকেনি, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে ফিরে যায় দেশের বাড়ি। সেই সব সংগ্রহ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলেন রবীন্দ্র-গ্রন্থাগার। তাঁর বাবামশায়ের অনেকগুলি ছবি যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছিলেন সেখানে। একজন মানুষের অসীম শ্রদ্ধা, ভালবাসা আর অসংখ্য টুকরো স্মৃতির কোলাজ নিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো কাটিয়েছিলেন বনমালী। নাম ও নিষ্কাম কর্মের এমন মেলবন্ধন আমাদের শেখায়, দুনিয়ায় আসলে ছোট-বড় নেই। তা কুরুক্ষেত্রের রণক্ষেত্রেই হোক বা শান্তিনিকেতনের নিভৃত প্রাঙ্গণ, বনমালীরা চিরকাল মানুষের উত্তরণের পথে সহযাত্রী। বনমালী যেন কেবল একটি নাম নয়, চিরন্তন সেবার প্রতীক, যা কখনও দৈব মহিমায় ভাস্বর, আবার কখনও মানবিক নিষ্ঠায় উজ্জ্বল।