কে হবেন বিরোধী দলনেতা? বৈঠকে বসলেন মমতা
কলকাতা: রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৎপরতা বেড়েছে। (Mamata Banerjee)এই পরিস্থিতিতে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, আজ বিকেলেই …
কলকাতা: রাজ্যে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৎপরতা বেড়েছে। (Mamata Banerjee)এই পরিস্থিতিতে দলের নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চলেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, আজ বিকেলেই তাঁর বাড়িতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, সাংসদ এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত আজই নেওয়া হতে পারে। নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর দলকে কীভাবে সংগঠিত করা হবে, সেই রূপরেখাও এই বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। এই আবহে দলীয় বিধায়কদের কাছে কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রায় ১০ সদস্যের এই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং রিপোর্ট দেবে।
আরও দেখুনঃ ব্যারাকপুরে তৃণমূলের দখল করা কংগ্রেস অফিস উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিল বিজেপি
তবে এই সব কিছুর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে ভরাডুবির পরও তাঁর মন্তব্য “আমরা তো হারিনি, হারলে পদত্যাগ করতাম” রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধী শিবির, বিশেষ করে বিজেপি তীব্র সমালোনায় সরব হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিতে পারে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটের ফলাফলই শেষ কথা। ফলে ফলাফল ঘোষণার পর তা মেনে নেওয়াই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ বলে মনে করা হয়। এই প্রসঙ্গে অনেকে ২০১১ সালের উদাহরণ টেনে আনছেন। তখন বামফ্রন্ট সরকারের পরাজয়ের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দ্রুত রাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, সেই একই প্রথা এবার কেন অনুসরণ করা হচ্ছে না?
যদিও তৃণমূলের অন্দরমহলের একাংশের দাবি, সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পদত্যাগের প্রশ্ন ওঠে না। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। তার আগে পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়াই নিয়ম বলেই দাবি তাঁদের। এই অবস্থায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে বিদায়ী সরকারের অবস্থান দুইয়ের টানাপোড়েনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।