Arambagh Bus Stand Extortion Ends: বিজেপি জিততেই বাস টার্মিনাল থেকে তোলাবাজি বন্ধ, স্বীকার তৃণমূল নেত্রীর – Bengali News | Arambagh Bus Stand Extortion Stops After Poll Results, TMC Leader Admits Drop in Illegal Collection
কী বলছেন তৃণমূল নেত্রী?Image Credit: TV9 Bangla
আরামবাগ: ২৪ ঘণ্টায় সব বদলে গিয়েছে। অবাক বাস মালিকরা। যেখানে প্রতিদিন তাঁদের ৩০০ টাকা পর্যন্ত ‘তোলা’ দিতে হত। মঙ্গলবার বাস টার্মিনালে এসে তাঁরা দেখেন, পার্কিংয়ের জন্য শুধুমাত্র ৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। কীভাবে সম্ভব হল? বাস মালিকরা বলছেন, সবই সম্ভব হয়েছে রাজ্যে পালাবদলের জেরে। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেই বাস টার্মিনাল থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছেন তোলাবাজরা। বাস টার্মিনাল থেকে যে তোলা নেওয়া হত, তা স্বীকার করছেন স্বয়ং তৃণমূলের নেত্রী তথা বাস মিনি বাস অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা। ঘটনাটি হুগলির আরামবাগের।
কী হত আরামবাগ বাস টার্মিনালে?
দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহর আরামবাগ। আর এই আরামবাগ শহরেই একমাত্র বাস টার্মিনালে তোলাবাজির অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি দীর্ঘদিন। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর, বর্ধমান, কলকাতাগামী বাসগুলি আরামবাগ বাস টার্মিনালে এসে দাঁড়ায় এবং পরে নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে ফিরে যায়। আর এখানেই অভিযোগ ছিল, প্রতিটি বাসে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিনা বিলে তোলা দিতে হত। বিদায়ী শাসকদল তৃণমূলের লোকজনই তোলাবাজি সঙ্গে যুক্ত ছিল। কোনও গাড়ি তোলা না দিয়ে বাস টার্মিনাল থেকে বের হতে পারত না।
গতকাল বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এদিন সকাল থেকেই বাসস্ট্যান্ডের চারপাশে দেখা যাচ্ছে না তৃণমূল নেতাদের। টিভি৯ বাংলাকে হাসিমুখে বাসমালিকরা বলছেন, এদিন সকাল থেকে শুধু পার্কিংয়ের তিরিশ টাকাই দিতে হচ্ছে। তার কাগজ দিচ্ছে। তোলা না দিতে হওয়ায় তাঁদের অনেক সুবিধা বলে মন্তব্য করেন।
বাস টার্মিনাল থেকে তোলাবাজি নিয়ে তৃণমূল নেত্রী তথা আরামবাগ বাস মিনি বাস অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদিকা মধুমিতা ভট্টাচার্য তোলাবাজির অভিযোগ স্বীকার করে বলছেন, অ্যাসোসিয়েশনের নির্দিষ্ট কুপনের মাধ্যমেই কুড়ি টাকা চাঁদা দিচ্ছেন। কত টাকা তোলা দিতে হত জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, “কোনও ঠিক ছিল না। ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত। বাস মালিকদের মুখে হাসি ফোটায় আমরা খুশি। আমি প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু, কোনও ফল হয়নি। যারা চাঁদা তুলত, তাদের আজকে দেখা যাচ্ছে না। আমাদের একটাই আর্জি, জামা বদলে ওই লোকগুলো আবার যেন চাঁদা তুলতে না আসে। যারা টাকা তুলত, তারা শাসকদলেরই ছিল। আজকে সব পালিয়ে গিয়েছে।”
পুরশুড়ার সদ্য বিজয়ী বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, “আজকে নয়। গতকাল বিজেপি জেতার পরই তোলা নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, তোলাবাজি হবে না। কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হবে না। বিজেপি জেতার পরই তোলাবাজরা পালিয়েছে। মেজকা বলে একজন ছিল। সে টাকা তুলত। তবে সুবিধা তৃণমূলের সবাই নিত।”