হেভিওয়েটদের পরাজয়েও দু’টি আসন কংগ্রেসের - 24 Ghanta Bangla News
Home

হেভিওয়েটদের পরাজয়েও দু’টি আসন কংগ্রেসের

Spread the love

এই সময়: অধীর চৌধুরী, মৌসম বেনজ়ির নুর, নেপাল মাহাতো, মনোজ চক্রবর্তী, শুভঙ্কর সরকারের মতো ওজনদার প্রার্থীরা পরাজিত! তা সত্ত্বেও বিধানসভায় গত পাঁচ বছরের শূন্য–দশা কাটাতে পারল কংগ্রেস। অধীর নিজে পরাজিত হলেও তাঁর এক সময়ের খাসতালুক মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ও রানিনগর থেকে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস।

মহতাব হোসেন ফারাক্কায় ৮,১৯৩ ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সুনীল চৌধুরীকে হারিয়েছেন। এখানে জোড়াফুল তৃতীয় স্থানে চলে গিয়েছে। মহতাব ৩৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। রানিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী জ়ুলফিকার আলি তৃণমূলের সৌমিক হোসেনকে ২,৭০১ ভোটে পরাজিত করেছেন। এখানে কংগ্রেস, তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে জোর টক্কর হয়েছে। এখানে সিপিএম প্রার্থী ২০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। কংগ্রেস ও জোড়াফুলের প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশের পার্থক্য রয়েছে।

অধীর চৌধুরী–সহ বিধানভবনের একাংশ বামেদের সঙ্গে জোটের পক্ষপাতী হলেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ২৯৪ আস‍নে একক লড়াইয়ের পক্ষে এআইসিসি–র কাছে সওয়াল করেছিলেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড শুভঙ্করের অবস্থানেই সিলমোহর দেয়। যদিও শুভঙ্কর নিজে শ্রীরামপুরে প্রার্থী হয়ে মাত্র ২,৮৮৪টি ভোট পেয়েছেন। নিজের জামানতও রক্ষা করতে পারেননি।

সিপিএমের মতো কংগ্রেসও ২০২১–এর ভোটে শূন্য হয়ে যায়। পরে সাগরদিঘির উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে বায়রন বিশ্বাস জয়ী হলেও তিনি জোড়াফুলে চলে যান। লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে কোনও দিন শূন্য হয়নি। কিন্তু পাঁচ বছর আগে বিধানসভায় দেশের গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির শূন্য হয়ে যাওয়ায় অধীরকে দিনের পর দিন তৃণমূলের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০২৬–এর ভোটে সিপিএম–কংগ্রেসের আসন সমঝোতা না–হলেও মুর্শিদাবাদ জেলায় অধীর চৌধুরী ও সিপিএম অঘোষিত আন্ডারস্ট্যান্ডিং করেছিলেন। সেই সমঝোতার ফলে কংগ্রেস ফারাক্কায় জয়ী হয়েছে। এখানে সিপিএম ২ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পেয়েছে।

মহতাব ও জ়ুলফিকার জয়ী হয়ে বিধানসভায় কংগ্রেসের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও মৌসম এবং অধীরের পরাজয় কংগ্রেস নেতা–কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করেছে। মৌসম বলেছেন, ‘এমন ফলাফল কল্পনাতেই ছিল না। রাজ্যজুড়ে মেরুকরণের ভোট হয়েছে। মানুষ নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছে। একটি দলকে সাপোর্ট করেছ।’ অধীরের কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিজেপি ঝড় সবাইকে কুপোকাত করেছে। আমিও কুপোকাত হয়েছি। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বাংলায় ছিল না। সেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরে যেতে হলো।’

রাজ্যে ২৯৪ আসনে প্রার্থী দিয়েও কংগ্রেস মাত্র ২.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অধীরের মুর্শিদাবাদই শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের শূন্যের গেরো কাটাতে পারেছে। এই পরিস্থিতিতে শুভঙ্কর এ দিন বলেছেন, ‘দীর্ঘ দু’দশক পরে কংগ্রেস সমস্ত কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল। অনেক জেলায় কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোট আশানুরূপ না হওয়ার কারণ দল অবশ্যই পর্যালোচনা করবে।’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো ভোটে পরাজিত হয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এ দিন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *