বিজয় মিছিলের আয়োজনে শিল্পশহরে ডিজের চাহিদা বেশি - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিজয় মিছিলের আয়োজনে শিল্পশহরে ডিজের চাহিদা বেশি

Spread the love

এই সময়: ভোট শেষ। এ বার ফলের প্রতীক্ষা। সোমবারই নির্ধারিত হয়ে যাবে আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের শাসনভার কার উপরে ন্যস্ত হবে।

কিন্তু যে পক্ষই জিতুক, সাফল্যের উৎসব তো পালিত হবেই আর তার অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজে। ভয়ঙ্কর শব্দঝড় তুলে তা ঘোষণা করবে বিজয়বার্তা! জেলায় জেলায় তার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়ে গিয়েছে উৎসব পালনের রূপরেখাও।

গত সপ্তাহেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ৪ মে-র পরে বিজয় মিছিলে বাজবে ডিজে। আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন উৎসবে ডিজে বাজানো নিয়ে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভোটের উৎসবে তার ব্যবহার নিয়ে তেমন কোনও কড়াকড়ি এখনও পর্যন্ত নেই। ফলে ডিজে ব্যবসায়ীরাও তৈরি হয়ে গিয়েছেন।

আসানসোলের জনপ্রিয় ডিজে ব্যবসায়ী নির্মল সাউন্ডের কর্ণধার স্নেহাশিস বাজপেয়ী জানিয়ে দিচ্ছেন, বড় ধরনের সাউন্ড বক্স-সহ অন্য উপকরণ তিনি পরীক্ষা করে ফেলেছেন। তৃণমূল এবং বিজেপি, দুই শিবির থেকেই ডিজে নেওয়ার বার্তাও চলে এসেছে। ভোটের ফল প্রকাশিত হলেই সেই ডিজে পৌঁছে যাবে নির্ধারিত ঠিকানায়।

বার্নপুরের আরএক ডিজে ব্যবসায়ী প্রকাশ চৌহানের কথায়, ‘তিন জায়গায় ডিজে পাঠানোর বরাত পেয়েছি। ব্যবসা ভালো হবে।’ এ বার দোল উৎসব এবং পিকনিকের মরশুমে ডিজে ব্যবহারে ছিল পুলিশের নিষেধাজ্ঞা। ভোটের উৎসবে ডিজে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেবে বলে বিশ্বাস প্রকাশের।

যদিও ভয়ঙ্কর শব্দদূষণ নিয়ে উল্টো স্বরও শোনা গিয়েছে। আসানসোলের চিকিৎসক অরুণাভ সেনগুপ্ত যেমন মনে করেন, ‘বয়স্ক এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাঁদের পক্ষে এটা ক্ষতিকারক।’ পশুপ্রেমী মোনালিসা সৈকত মনে করেন, ডিজের শব্দে পোষ্যদের শ্রবণ ক্ষমতাও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অবশ্য আশ্বাস দিচ্ছেন, ‘এমন কিছু হবে না, যা সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় ফেলবে।’ বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি তাপস রায়ের মন্তব্য, ‘সংযত থেকে সবাই মিছিলে অংশ নেবেন। মানুষকে যন্ত্রণা দেওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাসী নই আমরা।’

শিল্পনগরী দুর্গাপুরে ডিজে ভাড়া নিয়ে তৎপরতা রয়েছে দুই শিবিরেই। স্টিল টাউনশিপে রাজ সাউন্ডের কর্ণধার রাজ বলছিলেন, ‘৪ মে ডিজে লাগবে, তা দু’পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে। দু’ঘণ্টা করে ডিজে বাজানোর জন্য ছয় হাজার টাকা নিচ্ছি। সবাইকে বলে দিয়েছি, তিন হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে। অগ্রিম ফেরত দেওয়া হবে না। তাই কোনো দলের পক্ষে এখনও পর্যন্ত বুকিং আসেনি। ৪ মে ফল দেখার পরে বুকিম হবে।’

তবে বাঁকুড়া জেলায় এখনও পর্যন্ত ডিজে সংক্রান্ত তেমন উৎসাহ তৈরি হয়নি। শহরের এক সাউন্ড ব্যবসায়ী জয় সিংহ বললেন, ‘ভোটের ফলপ্রকাশকে কেন্দ্র করে ডিজে ভাড়া এখনও পাইনি। কিছু সাউন্ড বক্সের বুকিং হয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে।’

পুরুলিয়া জেলাতেও ডিজে ভাড়া করা নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই। জয়পুরের এক ডিজে ব্যবসায়ী সুব্রত মাহাতো বললেন, ‘কোনও দলের পক্ষ থেকে বায়না এখনও পাইনি।’ হুড়ার ডিজে ব্যবসায়ী তাপস মাহাতো বা আদ্রার ব্যবসায়ী সঞ্জীব কর্মকার জানালেন, রাজনৈতিক দলগুলি প্রাথমিক কথাবার্তা বলে রেখেছে তবে অগ্রিম বায়না হয়নি। ফল দেখার পরে সিদ্ধান্ত নেবে দলগুলি। (তথ সহায়তা: সুশান্ত বণিক, সঞ্জয় দে, বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, দুর্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, প্রশান্ত পাল)

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *