ব্যারাকপুর-দমদমের পর্যবেক্ষক রাজীব কুমারকে নিয়ে ক্ষোভ অর্জুনের
কলকাতা: ভোট গণনার আগে ব্যারাকপুর-দমদম অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। (Barrackpore counting)এবার প্রাক্তন ডিজিপি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে ঘিরে সরব হলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি …
কলকাতা: ভোট গণনার আগে ব্যারাকপুর-দমদম অঞ্চলে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। (Barrackpore counting)এবার প্রাক্তন ডিজিপি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে ঘিরে সরব হলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজে তৈরি হওয়া কাউন্টিং সেন্টারকে ঘিরে। বিজেপির দাবি, নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুকর্ণা রায় এবং সুমন নামে দুই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই ডিইও হিসেবে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও, কিছু সরকারি আধিকারিক নাকি শাসক দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, এই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বিশেষভাবে ভোট গণনার ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে।
আরও দেখুনঃ কাজ হল না সিংহমে! ফলতার থমথমে পরিবেশে ভরসা কেন্দ্রীয় বাহিনী
অর্জুন সিংয়ের মতে, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে ভোটের ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়ায় কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, “নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যাবে না। তবুও সেই নির্দেশ অমান্য করে এই নিয়োগ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এছাড়াও, আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে কিছু শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে। বিজেপির অভিযোগ, বলরাম সরকার, সফিকুদ্দিন এবং শুভ্রাংশু সিনহা নামে কয়েকজন শিক্ষককে আগে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, তাঁদেরই আবার গণনার দিনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অর্জুন সিং সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তাঁর মতে, কিছু আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন এবং এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজীব কুমারের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। অর্জুন সিংয়ের দাবি, তাঁকে ব্যারাকপুর ও দমদম সাংগঠনিক জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যা ভোট গণনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর অভিযোগ, রাজীব কুমারের অতীত ভূমিকা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে প্রযুক্তিগতভাবে গণনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট গণনার আগে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।