Early Symptoms of Nerve Damage: হাতে-পায়ে ঘনঘন ঝিঁঝি ধরছে? শরীর দিচ্ছে বড় স্নায়ুর রোগের সংকেত! – Bengali News | Nerve Problems Symptoms: Constant Tingling in Hands and Feet Could Be a Warning Sign
শরীরে অস্বস্তি মানেই অনেকেই ভাবেন গ্যাস-অম্বল কিংবা ক্লান্তির ফল। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, আপনার হাতের ওই সামান্য ঝিঁঝি ধরা বা অবশ ভাব আসলে এক গভীর বিপদের পূর্বাভাস হতে পারে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে প্যারেসথেসিয়া (Paresthesia) বলা হয়, তা কেবল রক্ত সঞ্চালনের অভাব নয়, বরং স্নায়ুর কঠিন অসুখের প্রাথমিক ধাপ হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে ঝিঁঝি ধরা স্বাভাবিক, কিন্তু কারণ ছাড়াই যদি বারবার হাতে-পায়ে সূঁচ ফোটানোর মতো অনুভূতি হয়, তবে সময় এসেছে সচেতন হওয়ার।
কী কারণে এমনটা ঘটে?
শরীরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ুতন্ত্র। যখনই এই ব্যবস্থায় গোলযোগ দেখা দেয়, শরীর অদ্ভুত কিছু আচরণের মাধ্যমে সতর্ক করার চেষ্টা করে। চিকিৎসকদের মতে, মূলত তিনটি লক্ষণ স্নায়ুর রোগের (Nerve Problems) জানান দেয়:
অনেক সময় হঠাৎ করেই হাত বা পায়ের পাতা অবশ হয়ে যায়। মনে হয় যেন প্রাণ নেই অঙ্গটিতে। একে চিকিৎসা পরিভাষায় পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (Peripheral Neuropathy) বলা হয়। বিশেষ করে প্রান্তীয় স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এমন পিন ফোটানোর মতো অস্বস্তি শুরু হয়। এটি কোনওভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।
স্নায়ুর কাজ হলো মস্তিষ্ক থেকে পেশিতে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। যখনই সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, তখন পেশি দুর্বল হতে থাকে। ফলে হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়া, ভারসাম্য হারিয়ে হোঁচট খাওয়া কিংবা সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে পা কাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অস্বাভাবিক এই ক্লান্তি স্নায়ুর আবরণের ক্ষতির দিকেই ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণ ব্যথার সঙ্গে স্নায়বিক ব্যথার আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আক্রান্ত স্থানে কখনও মনে হয় কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, আবার কখনও মনে হয় ইলেকট্রিক শক লাগছে। বিশেষ করে রাতের বেলা এই জ্বালাভাব মারাত্মক আকার ধারণ করে। এটি প্রমাণ করে যে আপনার স্নায়ুর সুরক্ষাকবচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের শরীরে ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12)-এর ঘাটতি রয়েছে কিংবা যারা দীর্ঘকাল ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিসের মতো স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ঝিঁঝি ধরাকে ‘সামান্য’ ভেবে ঘরোয়া টোটকায় সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।