ফাস্ট বোলার গড়ার বড় উদ্যোগ ! প্রজেক্ট ‘গতিতে’ গতি পাবে বাংলার ক্রিকেট?
Cricket Association of Bengal সমর্থিত উদ্যোগে তরুণ পেসার খোঁজ, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও লিগ চালুর পরিকল্পনা, ভবিষ্যতের তারকা গড়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: উত্তর চব্বিশ পরগনার ক্রিকেট পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে শুরু হতে চলেছে‘প্রজেক্ট গতি’। উত্তর ২৪ পরগনা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন এর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান তরুণ ফাস্ট বোলারদের খুঁজে বের করে তাঁদের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। বিশেষ করে দ্রুতগতির বোলার তৈরির দিকে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার ক্রিকেটে একটি বড় ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত।
এই প্রকল্পের অধীনে একটি নির্দিষ্ট বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিভা চিহ্নিত করা হবে। নির্বাচিত ক্রিকেটারদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, যেখানে ফিটনেস, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ম্যাচ পরিস্থিতির অনুশীলন—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি চালু হচ্ছে অনূর্ধ্ব দশ বয়সের শিশুদের জন্য ক্রিকেট লিগ, যাতে ছোটবেলা থেকেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে নতুন প্রজন্ম। এই প্রকল্পের কোচ, বাংলার প্রাক্তন ফাস্ট বোলার সাগরময় সেন শর্মা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে।
আরও পড়ুন: দুই ম্যাচেই খুলে যাবে বিশ্বকাপের দরজা? আশায় ভারতীয় ফুটবল দল !
তাঁর কথায়, “জেলার সকলের কাছে অনুরোধ, কেউ যেন কোচদের কোনওভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা না করেন। এতে খেলোয়াড়দের ক্ষতি হবে, আমাদের কাজের ক্ষতি হবে, এবং শেষ পর্যন্ত বাংলার ক্রিকেট ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সম্পূর্ণ সৎভাবে কাজ করে সেরা কুড়িজনকেই প্রশিক্ষণের জন্য বেছে নেওয়া হবে।” ক্রিকেট মহলের মতে, তৃণমূল স্তর থেকে পরিকল্পিত এই ধরনের উদ্যোগই ভবিষ্যতের বড় ক্রিকেটার তৈরির ভিত গড়ে দেয়। নিয়মিত অনুশীলন, উন্নত কোচিং এবং ম্যাচ খেলার সুযোগ—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় সফল ক্রিকেটার। সেই দিক থেকে ‘প্রজেক্ট গতি’ দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: টানা ছয়টি উইকেট! জোড়া হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস রচনা করলেন ডেভিস
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমানে সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, “বাংলার মাটিতে প্রতিভার কোনও অভাব নেই, দরকার শুধু সঠিক পরিচর্যা। এই প্রকল্প সেই কাজটাই করতে পারে। আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রম—এই তিন গুণ গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে এই জেলার ক্রিকেটাররাই বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করবে।”
অন্যদিকে জেলা সভাপতি নবাব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—জেলার প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রতিভা তুলে এনে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া। এই প্রকল্প শুধুমাত্র একটি পরিকল্পনা নয়, এটি ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। আমরা চাই, এখান থেকেই আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার উঠে আসুক।” সব মিলিয়ে, ‘প্রজেক্ট গতি’ উত্তর চব্বিশ পরগনার ক্রিকেটে নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে।