Loan Rules: লোন নেওয়ার পর কারোর মৃত্যু হলে কি পরিবারের উপরে সেই ঋণ শোধের দায় পড়ে? – Bengali News | Loan Rules Explained: Who Repays the Loan After Borrower’s Death? Key Facts Every Family Must Know
নয়া দিল্লি: এখন ইএমআই (EMI) নির্ভর জীবন। বর্তমানে অনেকেই নানা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ঋণ (Personal Loan), গৃহ ঋণ (Home Loan) বা গাড়ির ঋণ (Car Loan) নিয়ে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ যদি ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হয়, তাহলে বাকি ঋণের টাকা কে পরিশোধ করবে? এই প্রশ্ন অনেকেরই মনে জাগে। ব্যাঙ্কের ঋণ বা লোন পরিশোধের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যা সকলের জানা খুবই জরুরি।
কো-অ্যাপ্লিকেন্ট থাকলে কী হয়?
যদি কোনও ঋণের ক্ষেত্রে কো-অ্যাপ্লিকেন্ট অর্থাৎ সহ-ঋণগ্রহীতা থাকেন, তাহলে ঋণ গ্রহীতার মৃত্যুর পর সেই ব্যক্তিকেই বাকি ঋণের টাকা শোধ করতে হয়। বিশেষ করে হোম লোনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য হয়। কো-অ্যাপ্লিকেন্টকে নিয়মিত ইএমআই (EMI) জমা দিতে হয় লোন পরিশোধ হওয়া পর্যন্ত।
গ্যারান্টর থাকলে কী হয়?
যদি কো-অ্যাপ্লিকেন্ট ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন বা কোনও ঋণের ক্ষেত্রে কো-অ্যাপ্লিকেন্ট না থাকেন, তাহলে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টরের কাছে টাকা দাবি করতে পারে। গ্যারান্টর ঋণ পরিশোধের জন্য আইনিভাবে দায়বদ্ধ থাকেন।
উত্তরাধিকারীদের দায় কতটা?
অনেকেই মনে করেন, যিনি লোন নেন, তার মৃত্যু হলে, পরিবারের সদস্যদের উপরে পুরো দায় এসে পড়ে। তাদেক পুরো ঋণ শোধ করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এমনটা নয়। আইন অনুযায়ী, উত্তরাধিকারীরা শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে অধিকার পর্যন্তই দায়বদ্ধ বা সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ তাদের নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে ঋণ শোধ করতে হয় না। তাদের উপরে কোনও ঋণের দায় থাকে না।
লোন ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা-
বর্তমানে অনেক ব্যাঙ্কই লোন ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা দেয়। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বাকি ঋণের টাকা পরিশোধ করে দেয়। ফলে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ পড়ে না। এছাড়া টার্ম ইন্স্যুরেন্স থাকলেও, সেই টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করা সম্ভব।
সিকিওরড লোনের ক্ষেত্রে কী হয়?
হোম লোন বা কার লোনের মতো সিকিওরড লোনে সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা থাকা হয়। যদি ঋণ পরিশোধ কোনও কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাঙ্ক সেই সম্পত্তি দখল করে, নিলামে বিক্রি করে টাকা উদ্ধার করতে পারে।
আনসিকিউর্ড লোনের ক্ষেত্রে নিয়ম-
পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ডের মতো আনসিকিউর্ড লোনে কোনও জামানত থাকে না। এই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে টাকা আদায় করার চেষ্টা করে। যদি পুরো টাকা উদ্ধার না হয়, তাহলে সেই ঋণ ‘নন-পারফর্মিং অ্যাসেট’ (NPA) হয়ে যেতে পারে।
ঋণ নেওয়ার আগে এই বিষয়গুলি জানা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কো-অ্যাপ্লিকেন্ট, গ্যারান্টর এবং লোন ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত বিষয়গুলি পরিষ্কার থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারের উপরে আর্থিক ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।