'দেশ কি গাদ্দারকো গোলি মারো' স্লোগানে অপরাধ নেই! রায় আদালতের - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘দেশ কি গাদ্দারকো গোলি মারো’ স্লোগানে অপরাধ নেই! রায় আদালতের

Spread the love

নয়াদিল্লি: দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় ২০২০ সালে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর ও পারভেশ বর্মার (Supreme Court)বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বড় স্বস্তি দিয়েছে। …

নয়াদিল্লি: দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় ২০২০ সালে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর ও পারভেশ বর্মার (Supreme Court)বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বড় স্বস্তি দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই স্লোগানে কোনও ‘কগনিজেবল অফেন্স’ (জ্ঞাতসারে অপরাধ) গঠিত হয়নি।

ফলে দুই নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো ভিত্তি নেই বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত।২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অনুরাগ ঠাকুর এবং পারভেশ বর্মা ‘দেশ কে গদ্দারো কো, গোলি মারো সালো কো’ স্লোগান দিয়েছিলেন। এই স্লোগানটি তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বিরোধী দলগুলো এটিকে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি বলে অভিযোগ করে।

আরও দেখুনঃ “নির্যাতিতার গর্ভপাতে সময়ের বেড়ি কেন?” কেন্দ্রকে আইন বদলের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) তখন দুই নেতাকেই প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এরপর বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ মামলা দায়ের করে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ করে বলেছে, স্লোগানটি যতই আপত্তিকর ও অশালীন মনে হোক না কেন, তা এককভাবে কোনো জ্ঞাতসারে অপরাধ গঠন করে না। আদালতের মতে, এই ধরনের স্লোগানকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হলে তাতে সরাসরি হিংসা ছড়ান বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর স্পষ্ট প্রমাণ থাকতে হয়।

বর্তমান ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড পূরণ হয়নি। আদালত আরও বলেছে, রাজনৈতিক প্রচারে উত্তেজিত ভাষা ব্যবহার হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে প্রত্যেকটি আপত্তিকর বক্তব্যকে ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের ফলে অনুরাগ ঠাকুর ও পারভেশ বর্মার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা যায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি নির্বাচনের প্রচার চরমে ওঠার সময় অনুরাগ ঠাকুর রামলীলা ময়দানে এবং পারভেশ বর্মা অন্য একটি জনসভায় এই স্লোগান দেন।

তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিএএ-বিরোধী আন্দোলন চলছিল। স্লোগানটি শোনার পর বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। আপ, কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি দল এটিকে ‘সাম্প্রদায়িক বিষ’ ছড়ানোর অভিযোগ করে। নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই নেতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিজেপি শিবিরে স্বস্তির হাওয়া বইছে। দলের নেতারা বলছেন, এটি প্রমাণ করে যে বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে বিজেপি নেতাদের হয়রানি করার চেষ্টা করেছিল।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো আদালতের পর্যবেক্ষণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাঁরা বলছেন, এই স্লোগান স্পষ্টতই ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল এবং এটিকে শুধুমাত্র ‘উত্তেজিত ভাষা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বক্তৃতা ও স্লোগানের সীমা নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। একদিকে যেমন বাকস্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করা জরুরি, অন্যদিকে ঘৃণামূলক বক্তব্য যাতে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *