Abhishek Banerjee: মালদা-মুর্শিদাবাদের নেতাদের বিশেষ বার্তা অভিষেকের, কী বললেন? – Bengali News | TMC National General Secretary Abhishek Banerjee gives special message to party leaders of Murshidabad and Malda
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ভোটের ফল কী হতে পারে? অঙ্ক কষছে সব রাজনৈতিক দল। এই দুই জেলাতেই বেড়েছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের প্রভাব। আবার হুমায়ুন কবীর নিজের দল গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রয়েছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের দলের নেতাদের বিশেষ বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে কী তুলে ধরতে হবে, সেকথা বলে দিলেন এই দুই জেলার নেতাদের। মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই দুই জেলার নেতাদের কী বললেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড?
আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক। ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে দলের প্রার্থী, বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, ডেপুটি মেয়র, সাংসদ, জেলা পরিষদ সদস্য, পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান এবং বিভিন্ন নির্বাচন কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সেখানে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের নেতাদের অভিষেক বলেন, “মালদহ ও মুর্শিদাবাদে যাঁরা ভোটের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা মানুষকে বোঝান যে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপির হাত শক্ত করা। কংগ্রেস কি বিজেপিকে কোথাও রুখতে পেরেছে? মানুষকে বোঝান। এরপরই তিনি বলেন, “কংগ্রেস নেতাদের জেতালে ওঁরা যদি কাল টাকা নিয়ে বিজেপিতে চলে যান, কী করবেন। এ কথা মানুষকে বোঝান।”
প্রথম দফাতে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ভোট রয়েছে। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনে এই দুই জেলায় ভালো ফলের আশা করছে কংগ্রেস। অধীর চৌধুরী তিন দশক পর বহরমপুরে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। ভোটের কয়েক মাস আগে তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফিরেছেন মালদহের গনি খান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য মৌসম বেনজির নুর। তাতে উজ্জীবিত হয়েছেন মালদহের কংগ্রেসের কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে এই দুই জেলায় তৃণমূলের আসন ধরে রাখতে নেতাদের কী করতে হবে, তার বার্তা দিলেন অভিষেক।
ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। একইসঙ্গে দলের নেতাদেরও কড়া বার্তা দিলেন। বিজেপিকে নিশানা করে দলের নেতাদের অভিষেক বলেন, “যারা বিরোধী আসনে থাকতে নাম বাদ দিচ্ছে, ক্ষমতায় এলে তারা কী করবে? এ কথা মানুষকে বোঝান। বিজেপি যদি জিতেই যেত, তাহলে ইডি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে কেন? কারণ ১০ কোটি বাঙালির আস্থা তৃণমূলের সঙ্গেই আছে।” দলের নেতাদের তিনি আরও বলেন, “আবার বাড়ি বাড়ি যান। আগামী সাত দিন গ্রামে গ্রামে ঢুকে চাটাই বৈঠক করে মানুষকে বোঝান যে আপনাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবশ্রী-সহ নানা প্রকল্পে মোদীর টাকা নেই। দিদি জিতলে আপনারা উপকৃত হবেন। আর বিজেপি জিতলে আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।” বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেন, “বিহারে তিনমাস আগে ভোট দিয়ে কেউ যদি এখানে ভোট দিতে আসে, ভোট দিতে দেব না। এখানে বহু অবাঙালি থাকেন, তাঁদের নিয়ে আপত্তি নেই।”
দলের নেতাদেরও ভার্চুয়াল বৈঠকে কড়া বার্তা দেন অভিষেক। বলেন, “আগামী ১৫ দিনের উপর আপনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ভালো ফল হলে দল পুরস্কৃত করবে। খারাপ হলে দল বুঝে নেবে। ভালো ফল হলেই তবে কাউন্সিলর ভোটে টিকিট পাবেন। না-হলে নয়। কেউ যদি ভাবেন কলকাতার নেতা ধরে টিকিট পাবেন, জেনে রাখুন পাবেন না।”
দলের নেতাদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “অনেকে আমাকে বলছে, দাদা কোনও চিন্তা নেই, আমরা আট হাজার লিড তুলব। আরে কিভাবে তুলবেন, সেটা নিশ্চিত করুন। আপনি চারটি রুটি খাবেন। সেটা তো আপনাকে গুছিয়ে রাখতে হবে। ভোটে লিডটা কোথা থেকে আসবে, গুছিয়ে রাখুন।”
ভার্চুয়াল এই বৈঠকে কমিশনের একটি নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আজ নির্বাচন কমিশনের গ্রুপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রীর গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপি কে কিছু করা যাবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে কোর্টে যাব। বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বিচার ব্যবস্থার একাংশকে কাজে লাগাচ্ছে। আমি বলবই। আদালত অবমাননা হলে বুঝে নেব।”