কন্যার মৃত্যুর পর মায়ের প্রতিষ্ঠা! টালিগঞ্জের এই কালীমন্দিরের ইতিহাস জানেন? - Bengali News | Mystery of karunamoyee kali temple the untold secrets of tollygunge - 24 Ghanta Bangla News
Home

কন্যার মৃত্যুর পর মায়ের প্রতিষ্ঠা! টালিগঞ্জের এই কালীমন্দিরের ইতিহাস জানেন? – Bengali News | Mystery of karunamoyee kali temple the untold secrets of tollygunge

Spread the love

টালিগঞ্জের ব্যস্ত রাস্তা, গাড়ির হর্ন, মানুষের ভিড় সবকিছুর মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব সাক্ষী। দিনের আলোয় যে মন্দিরটিকে সাধারণ কালীমন্দির বলে মনে হয়, রাত নামলেই তার চারপাশের আবহে আসে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক গভীর রহস্যময় ইতিহাস।

এই মন্দিরের ইতিহাস প্রায় আড়াইশো বছরেরও বেশি পুরনো। কথিত আছে, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের জমিদার নন্দদুলাল রায়চৌধুরী এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তবে মন্দির তৈরির পেছনের কারণ আজও চোখে জল এনে দেয়। ইতিহাসের পাশাপাশি এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে করুণ কাহিনী।

লোকমুখে শোনা যায়, নন্দদুলাল রায়চৌধুরীর একমাত্র কন্যা করুণাময়ীর অকালমৃত্যু হয়। সন্তান হারানোর শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন নন্দদুলাল। সেই শোকের মধ্যেই এক রাতে তিনি স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে তিনি দেখেন একটি বিশেষ কষ্টিপাথর এবং সেই পাথরের মধ্যেই অবস্থান করেছেন দেবী। পরদিন জমিদার নির্দেশ দেন সেই পাথর খুঁজে আনার। ঠিক স্বপ্নে দেখা জায়গাতেই খুঁজে পাওয়া যায় পাথর। আর ঠিক সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় দেবীর মূর্তি। কন্যার নামেই দেবীর নাম রাখেন করুণাময়ী।

এই মন্দিরের দেবীমূর্তি অন্যান্য কালীমূর্তির থেকে আলাদা। এখানে দেবী রক্তরঞ্জিত ভয়ংকর রূপে নয়, বরং করুণাময়ী মমতাময়ী কন্যা রূপে পূজিত হন। স্থানীয় ভক্তদের একাংশ বিশ্বাস করেন, এই মন্দিরে মানত করলে তা সহজেই পূরণ হয়। আবার অনেকেই বলেন, মন্দির চত্বরে মাঝেমধ্যে এমন কিছু অনুভূতি হয়, যা ব্যাখ্যা করা কঠিন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরটি বহুবার সংস্কার হয়েছে। বর্তমান কাঠামোটি আধুনিক হলেও তার ভেতরে লুকিয়ে আছে শতাব্দী প্রাচীন স্মৃতি। বিশেষ করে কালীপুজোর রাতে মন্দিরের পরিবেশ ঘিরে নানা গল্প শোনা যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, গভীর রাতে নাকি শোনা যায় অস্পষ্ট নূপুরের ধ্বনি, আবার কারও মতে, দেবীর উপস্থিতি তখন আরও তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *