শুভ কাজের আগে হাঁচি দেওয়া কি সত্যিই অশুভ? কী বলছে শাস্ত্র – Bengali News | Is sneezing before auspicious work really inauspicious what the scriptures say
ঘর থেকে বেরোনোর মুখে হঠাৎ হাঁচি? বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মতোই হাঁচি নিয়ে সংস্কারের তালিকাও বেশ দীর্ঘ। কেউ একে দেখেন বিপদের সংকেত হিসেবে, আবার কেউ মনে করেন এটি আসন্ন সাফল্যের ইঙ্গিত। তবে শকুন শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি হাঁচি নেতিবাচক নয়; বরং হাঁচিটি কোন সময়ে, কোন পরিস্থিতিতে বা কয়বার হচ্ছে— তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় তার ফলাফল।
কখন হাঁচি দেওয়া অশুভ?
শকুন শাস্ত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো শুভ কাজে যাওয়ার সময় সামনে কেউ হাঁচি দিলে তাকে বাধা বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিয়ে জল খেয়ে যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কিছু অশুভ লক্ষণ হলো:
মহিলারা দুধ ফোটানোর সময় হাঁচি দিলে তা পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতার সর্তকতা হতে পারে। কোনও বিতণ্ডার মাঝে হাঁচি পড়া মানে বিষয়টি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত। অবাক শোনালেও সত্যি, অনেক সময় হাঁচি আপনার জন্য শুভ খবর বয়ে আনতে পারে। যেমন:
কোনও শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের উদ্দেশ্যে বেরোনোর সময় পরপর দুবার হাঁচি দেওয়া অত্যন্ত শুভ। এটি কাজে সফলতা এবং আকস্মিক ধনলাভের ইঙ্গিত দেয়। যদি ওষুধ খাওয়ার সময় কেউ হাঁচি দেয়, তবে মনে করা হয় সেই ব্যক্তি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
বাজারে গিয়ে কোনো জিনিস কেনার সময় হাঁচি দিলে তা ভবিষ্যতে সেই বস্তু থেকে সুখ ও লাভের ইঙ্গিত বহন করে।
যদিও শকুন শাস্ত্র হাঁচিকে ভবিষ্যতের সাথে যুক্ত করে, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিজ্ঞানীদের মতে, নাকের ভেতরে ধুলোবালি, ধোঁয়া বা অ্যালার্জেন প্রবেশ করলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র ফুসফুস থেকে সজোরে বাতাস বের করে দেয় যাতে সেই ক্ষতিকারক কণাগুলো বেরিয়ে যায়। এটি শরীরের একটি জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা মাত্র।
সব হাঁচিকে নেতিবাচক বা অশুভ মনে করার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই এর গুরুত্ব বোঝা প্রয়োজন। তবে সংস্কার বা বিজ্ঞান— যেভাবেই দেখুন না কেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বারবার হাঁচি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।