যতদিন না জেলার সব গরিব মানুষ সরকারি পরিষেবা পাবেন, ততদিন বেতন নেবেন না, সিদ্ধান্ত এই জেলাশাসকের – Bengali News | This District Collector From Rajasthan Decided not to take Salary till all poor people get Govt Scheme Benefit
জেলাশাসক আইএএস অরুণ কুমার হাসিজা।।Image Credit: X
জয়পুর: মানুষের সেবাই ধর্ম। সরকারি চাকুরেদের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন যে তারা মাসে মাসে বেতন পেলেও, যাদের কাজ করার জন্য বেতন পাচ্ছেন, তারাই পরিষেবা পাচ্ছেন না। তবে এই ধারণাকে ভেঙে নজির গড়লেন এক জেলাশাসক। শপথ নিলেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর জেলার প্রত্যেক গরিব মানুষ সরকারি স্কিমের সুবিধা না পাবেন, ততদিন পর্যন্ত তিনি বেতন নেবেন না।
রাজস্থানের রাজসামান্দের জেলাশাসক আইএএস অরুণ কুমার হাসিজা। তিনি চান, তাঁর জেলায় থাকা প্রতিটি গরিব মানুষ সেই সমস্ত সরকারি স্কিমের সুবিধা পাক, যা আর্থিক সুবিধা দেয়। তিনি বলেন, “দুইভাবে এই কাজ করানো যেত। হয় আমাকে জেলার আধিকারিকদের উপরে চাপ সৃষ্টি করতে হত কাজ করানোর জন্য, আর নয়তো আমি তাদের কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারি। আমি শপথ নিয়েছি যে তাদের অনুপ্রাণিত করব যাতে তারা নিজেদের কাজ সঠিক সময়ে শেষ করে এবং আমাদের নাম নথিভুক্ত করার কাজ শেষ হয়।”
রাজসামান্দ জেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রয়েছেন, যারা দরিদ্র সীমায় পড়েন। যে তিনটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা বলেছেন জেলাশালক, তা হল প্রথম, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষার অধীনে বিনামূল্যে রেশন, দ্বিতীয় যে সকল শিশুরা পিতা-মাতার সাপোর্ট হারিয়েছে, তাদের পালনহার যোজনার সুবিধা দেওয়া হয় এবং তৃতীয়- অবিবাহিত মহিলা, বিধবা মহিলা ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য যে সামাজিক সুরক্ষা পেনশন বা আর্থিক ভাতা দেওয়া হয়, সেগুলি। জেলার অনেকের কাছে এই সরকারি সহায়তাই একমাত্র আয়, বেঁচে থাকার রসদ।
জেলাশাসক অরুণ কুমার হাসিজা বলেন, “যদি আমাদের বেতন ১০ দিনও দেরিতে আসে, তাহলে আমাদের কত সমস্যা হয়। আয়ের সঙ্গে সকলের জীবন জড়িয়ে, সন্তানের স্কুলের ফি, ইএমআই, ক্রেডিট কার্ড বিল ও অন্যান্য সমস্ত খরচ। যদি ১০ দিনও দেরি হয় বেতনে, তাহলে কী প্রভাব পড়ে জীবনে, আমি চাই, আমার অধঃস্তন কর্মীরা সেটা বুঝুক। ভাবুন তো ওই সমস্ত গরিব মানুষের কথা, যারা সরকারের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা করে পান। যদি ভেরিফিকেশনের জন্য তিন মাস ওই টাকা আটকে থাকে, তাহলে তা অবিচার ছাড়া কিছু নয়।”
নিজের বেতন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতেই সত্যি সত্যি সরকারি কাজে তাঁর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টাতেই ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৪৪০ জন উপভোক্তার মধ্য়ে ৮৮ শতাংশের নাম নথিভুক্ত করা হয়ে গিয়েছে। জেলাশাসকের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রেশন ও পালনহার যোজনাতেও উপভোক্তাদের নাম নথিভুক্ত হয়ে যাবে। তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের বেতন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আধিকারিকরা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করে ফেলা হবে।