Bangladesh Update: ‘সম্প্রীতির’ বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে ‘বিদ্বেষী’ হাদির নাম! বড় বদলের পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় – Bengali News | Dhaka University Syndicate Moves to Remove Bangabandhu’s Name from Campus Landmarks
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া নতুন বাংলাদেশে ঠাঁই নেই বঙ্গবন্ধুর। আবার একবার সেই নজির তৈরি করে ফেলেছে পদ্মাপাড়। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্য়ালয় প্রাঙ্গন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে দিতে উদ্যত্ত হল ঢাবি সিন্ডিকেট। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী এবং কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে কার নাম জুড়তে চায় ওই সিন্ডিকেট?
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ ওসমান হাদি হল’ নামকরণের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। ঢাবির (পড়ুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
পাশাপাশি, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের’ নাম বদলে ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম হল নামকরণের সুপারিশ করা হবে সিন্ডিকেটের তরফে। খুব শীঘ্রই এই মর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিনেটের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠাবে সিন্ডিকেট। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক সাইফুদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে, ‘বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেট সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাবির সিনেট।’
তবে শুধুই এই দু’টি হল নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অন্তর্গত মোট পাঁচটি স্থাপনা থেকে শেখ হাসিনার পরিবারের নাম সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাবি সিন্ডিকেট। প্রস্তাব দেওয়া হবে ‘শহিদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল’-এর নাম পরিবর্তন করারও। এছাড়াও আরও দু’টি স্টাফ কোয়ার্টার — ‘রাসেল টাওয়ার’ ও ‘বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের’ নাম পরিবর্তন করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে সিন্ডিকেটের তরফে।
উল্লেখ্য, গতবছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্য় দিবালোকে গুলি করা হয় হাসিনা-বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে। তারপর থেকেই উত্তাল পরিস্থিতি দেখা যায় বাংলাদেশজুড়ে। হাদিকে গুলি-কাণ্ড ঘিরে যখন বাংলাদেশজুড়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। সেই সময় হাদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠায় ইউনূস সরকার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্য়ু হয় ওসমান হাদির। এখন সেই হাদির দেহ ঢাবি সিন্ডিকেটের সুপারিশেই সমাধিস্থ হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে।