Bankura: শালতোড়ায় বন্ধ পাথরভাঙা শিল্প, কোথায় যাচ্ছেন শ্রমিকরা? ভোট আসতেই বাড়ছে তরজা – Bengali News | Nearly 20 thousand labourers go to other states for work after stone crusher industry closed in Bankura
কী বলছে বিজেপি ও তৃণমূল?Image Credit: TV9 Bangla
বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার শালতোড়া ব্লকের একসময় পরিচিতি ছিল পাথরভাঙা শিল্পের জন্য। এই ব্লকে থাকা প্রায় ২৫০টি ক্রাশারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করতেন এলাকার ২০ হাজার শ্রমিক। ২০২১ সালের পর সরকারি নির্দেশে এই ব্লকের ক্রাশার শিল্প বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও বিভিন্ন কারণে সেই শিল্পের চাকা আর সেভাবে ঘোরেনি। কাজ হারিয়ে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক হয়ে পড়েছেন পরিযায়ী। ভোট আসতেই শালতোড়ার পাথরভাঙা শিল্প নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী দায় ঠেলাঠেলি।
রুখা শুখা বাঁকুড়া জেলার সবথেকে অনুর্বর ব্লক হিসাবে পরিচিত শালতোড়া। কিন্তু এই শালতোড়ার মাটির নিচেই লুকিয়ে রয়েছে থরে থরে কালো পাথর। একসময় এই পাথরের উপর নির্ভর করেই শালতোড়ায় রমরমিয়ে চলত প্রায় ২৫০টি পাথর ভাঙার ক্রাশার। এলাকার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন ও জীবিকা চলত এই ক্রাশারগুলির উপর নির্ভর করে। বীরভূমের রামপুরহাট ও পাঁচামির সঙ্গে সমানে সমানে টেক্কা দিত শালতোড়ার পাথরভাঙা শিল্প। কিন্তু অধিকাংশ পাথর খাদানের বৈধ অনুমতি নেই এই অভিযোগে ২০২১ সালে রাজ্য সরকার শালতোড়ায় পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। কাঁচামালের অভাবে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় সবকটি ক্রাশার।
পাথর খাদানগুলির বৈধ অনুমতির দাবিতে ক্রাশার মালিক থেকে শ্রমিকরা দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হতাশ শ্রমিকেরা পেটের টানে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে পাড়ি জমান ভিন রাজ্যে অথবা ভিন জেলায়। অচল অবস্থায় পড়ে পড়ে বিকল হয়ে যায় ক্র্যশারগুলির কলকব্জা। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শালতোড়ায় দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে ক্রাশার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাথরভাঙা শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপর নামমাত্র কয়েকটি খাদানে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাতে গোনা গোটা চারেক সেই খাদানে যে সামান্য পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা যায়, তা দিয়ে শালতোড়া ব্লকের দু-একটি ক্রাশার ধুঁকে ধুঁকে চললেও বাকি ক্রাশারগুলির হাল ফেরেনি।
এদিকে নির্বাচন আসতেই শালতোড়া ব্লকের পাথরভাঙা শিল্পের এই দুর্দশা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর। শাসকদলকে কাঠগোড়ায় তুলে বিজেপির দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনে শালতোড়া বিধানসভায় বিজেপি জিতে যাওয়ার কারণেই প্রতিহিংসায় রাজ্য সরকার শালতোড়ার পাথরভাঙা শিল্প বন্ধ করে দিয়েছে। শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি বলেন, “তৃণমূল বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়। কোনও কাজ করেনি। শুধু পাথরভাঙা শিল্প নয়। অনেক কিছু বন্ধ। আমরা বারবার ডেপুটেশন দিয়েছি। কিন্ত, কাজ হয়নি। তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দেয়, কাজ হয় না।” তিনি আরও বলেন, “এই শিল্পের সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ যুক্ত। প্রত্যেক শ্রমিক বাইরে চলে গিয়েছেন। আর এখানকার তৃণমূল নেতারা বলেন, বিজেপি নাকি কাজ বন্ধ করেছে। তাহলে আমরা ডেপুটেশন দিতাম না। বিধানসভায় হারার জন্য তৃণমল এটা বন্ধ করে রেখেছে।”
অভিযোগ উড়িয়ে শাসক তৃণমূলের দাবি, ওই শিল্পের সঙ্কট কাটানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “পাথরভাঙা শিল্প তো ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। সরকার তো চারটে লাইসেন্স দিয়েছে। পুরোদমে কীভাবে চালু করা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। হবে। আমরা শ্রমিকদের মারব না। স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করব।” বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিজেপি সরকার নিজেরা কী করছে দেখুক। কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক থেকে লুঠ হয়েছে। এটা কি ভাল হয়েছে? আয়নায় মুখ দেখুক বিজেপি।”
বাঁকুড়ায় ফের আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শালতোড়ায় সভা করবেন। সেই সভা থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলি।