Explained: দেশ পাহারায় নিবেদিত প্রাণ! কর্তব্যপথে এই প্রথম দিশি কুকুর - Bengali News | Indian dogs will participate in the Republic Day brigade for the first time. - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: দেশ পাহারায় নিবেদিত প্রাণ! কর্তব্যপথে এই প্রথম দিশি কুকুর – Bengali News | Indian dogs will participate in the Republic Day brigade for the first time.

Spread the love

এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘চতুষ্পদ’ বাহিনী বা পশু, পাখিদের ব্রিগেড। ২৬ জানুয়ারি, কর্তব্যপথে কসরৎ দেখাবে দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট, চারটি টাট্টু ঘোড়া, চারটি শিকারি পাখি, দশটি দিশি ব্রিডের কুকুর। এরা প্রত্যেকেই ভারতীয় সেনার ‘রিমাউন্ট অ্যান্ড ভেটেরিনারি কোর’ বা RVC-র গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পশু-পাখিদের কর্তব্যপথে নামিয়ে সেনা দেখাবে, কীভাবে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই চারপেয়েরাও পাহারা দেয়। একইসঙ্গে ভারত যে প্রতিরক্ষায় এখন সবদিক থেকেই আত্মনির্ভর, এই দিশি চতুস্পদ বাহিনীকে নামিয়ে সেই বার্তাও দিতে চায় সেনা।

কর্তব্যপথে এই প্রথম কারা?

  • দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট: এবারের কুচকাওয়াজের একদম শুরুতে থাকবে দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট। লাদাখের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায়, বালি ও বরফে ঢাকা এলাকায় সেনার ভরসা এই উটেরা। ১৫ হাজার ফুট উঁচুতে, যেখানে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা কম, সেখানে এই উটেরা প্রায় ২৫০ কিলোগ্রাম ওজনের মালপত্র-সহ বাহিনীর জওয়ানদের বয়ে নিয়ে চলে। তাও দিনের পর দিন ন্যূনতম জল ও খাবার খেয়ে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা LAC-র বরফে ঢাকা পিচ্ছিল পথে এই উটেরা ভারতীয় সেনাকে যে কতটা সাহায্য করে, সেটাই ২৬ জানুয়ারি দেখানো হবে দিল্লির কর্তব্যপথে।

bactrian camel

  • চারটি টাট্টু ঘোড়া: পোশাকি নাম ‘জান্সকার পনি‘। চলতি কথায় লাদাখি টাট্টু। শুধু লাদাখেই পাওয়া যায় এই বিরল প্রজাতির ঘোড়া। মাইনাস ৪০ ডিগ্রি ঠাণ্ডায় পিঠে করে বাহিনীর জওয়ানদের ১৫ হাজার ফুট উঁচুতে বয়ে চলে এই টাট্টু। ২০২০ থেকে এদের বাহিনীতে অন্তৰ্ভূক্তি। সিয়াচেনে এক একদিন সেনা-জওয়ানদের প্রায় ৭০ কিলোমিটার বয়ে নিয়ে চলে এরা।

zanskar pony

  • চারটি শিকারি পাখি: সেনার আস্তিনের লুকানো তাস। নজরদারির কাজে ব্যবহৃত চারটি ঈগল। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে RVC কোর। এরা বায়ুসেনা ঘাঁটির আশেপাশের পাহারা দেয়। আচমকা কোনও ছোট পাখি যেন সেনার বিমানের কাছে না এসে পড়ে, সেদিকে সতর্ক নজর থাকে এই শিকারী ঈগলের। আবার, কোনও ড্রোন যদি হঠাৎ উড়ে আসে সীমান্তের এপারে, তখন সেনাকে সতর্ক করে। তবে ঈগল বাহিনীর সবচেয়ে বড় কাজ – নজরদারি। ‘হ্যাক-হীন’ নজরদারিতে সেনার বড় ভরসা এই ঈগল বাহিনী। এমনিতেই, মানুষের চেয়ে ৮ গুণ বেশি দেখে ঈগল। তার উপর আবার একজন জওয়ান একবারে যেখানে ১৮০ ডিগ্রি দেখতে পান, সেখানে ঈগল পাখি দেখতে পায় ৩৪০ ডিগ্রি

eagle

  • দশটি দিশি কুকুর : তবে এবছরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে সেনার সারমেয়-বাহিনী। যাদের ‘সাইলেন্ট ওয়ারিয়র’ বা ‘নিঃশব্দ যোদ্ধা’ বলেও ডাকা হয়। উত্তরপ্রদেশের মিরাটে প্রশিক্ষিত এই দিশি কুকুরবাহিনী সেনাকে সন্ত্রাস দমনে বিশেষভাবে সহায়তা করে। পাশাপাশি, মাইন-সহ অন্যান্য বিস্ফোরক খুঁজতে, জঙ্গি ও দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে, গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলি পাহারা দিয়ে সেনাকে সাহায্য করে। প্যারেডে দেখানো হবে, বিদেশি শিকারি কুকুরের পাশাপাশি কীভাবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর অধীনে দিশি কুকুরদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুধল হাউন্ড, রামপুর হাউন্ড, চিপ্পিপারাই, কম্বাই ও রাজাপালায়ম জাতের শিকারি কুকুর কীভাবে সেনাকে সাহায্য করে সেটা দেখানো হবে এবারের কুচকাওয়াজে।

বোঝানো হবে, শুধু সেনা জওয়ান বা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র- ই নয়, এই দিশি চারপেয়ে পশু-পাখিরাও নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে দেশকে আগলে রাখে। লাদাখ হোক বা বন্যা বিধ্বস্ত কেরালা– সাহায্যের জন্য, উদ্ধারকাজে সেনার সঙ্গেই ঝাঁপিয়ে পড়ে এই দিশিরাই। বাঙালি যাকে ‘নেড়ি’ বলে ডাকে, সেই নেড়িরাই এবারের রাজধানীতে কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *