আকাশে দেখা মিলবে মহাজাগতিক ‘উলফ মুন’, জেনে নিন বিস্তারিত – Bengali News | The wolf moon to grace the skies tonight heres all you need to know
হিন্দু ধর্মে প্রতিটি পূর্ণিমারই রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পুরাণ মতে, পূর্ণিমার দিনে চাঁদ তার ১৬টি কলায় পূর্ণ থাকে, যার ফলে আকাশ এক অপার্থিব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার পৌষ মাসের পূর্ণিমা— যা ২০২৬ সালের প্রথম পূর্ণিমা। তবে আজকের এই চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে আলাদা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে আজকের এই চাঁদ ‘উলফ মুন’ (Wolf Moon) নামে পরিচিত।
কেন একে ‘উলফ মুন’ বলা হয়?
জানুয়ারি মাসের এই পূর্ণিমাকে ‘উলফ মুন’ ডাকার নেপথ্যে রয়েছে এক প্রাচীন ইতিহাস। বলা হয়, প্রাচীনকালে এই সময়ে প্রচণ্ড শীত পড়ত। তীব্র ঠান্ডার কারণে মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরেই কাটাতেন। সেই নিস্তব্ধ পরিবেশে বাইরে ক্ষুধার্ত নেকড়ে বা উলফদের ডাক স্পষ্ট শোনা যেত। সেই থেকেই জানুয়ারি মাসের এই পূর্ণিমা বা পৌষ পূর্ণিমার চাঁদের নাম হয়ে যায় ‘উলফ মুন’।
কখন দেখা যাবে এই বিরল দৃশ্য?
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, আজ (৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পৃথিবী সূর্যের সবথেকে কাছের বিন্দুতে অবস্থান করবে। এই মহাজাগতিক অবস্থানের কারণে আজকের চাঁদ অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি বড় এবং উজ্জ্বল দেখাবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সময়ে পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব হবে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৯৪ কিলোমিটার।
চন্দ্রোদয় ও চন্দ্রাস্তের সময়:
চন্দ্রোদয়: বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট (৩ জানুয়ারি ২০২৬)
চন্দ্রাস্ত: সকাল ৮টা (৪ জানুয়ারি ২০২৬)
কিভাবে দেখবেন এই চাঁদ?
পৌষ পূর্ণিমার এই ‘উলফ মুন’ খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা যাওয়ার কথা। তবে বর্তমানের হাড়কাঁপানো শীত আর বড় শহরগুলোর আকাশ কুয়াশা বা দূষণে ঢাকা থাকলে খালি চোখে দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলারের সাহায্যে এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যেতে পারে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতেও আজকের দিনটি অত্যন্ত শুভ। স্নান, দান এবং জপ-তপের মাধ্যমে এই পূর্ণিমার পুণ্য অর্জনের বিধান রয়েছে সনাতন ধর্মে।