SIR: আশিতে আসিও…! SIR-এর লাইনে কাঁপছে অশীতিপররা – Bengali News | Old woman and man are in SIR Line for hearing in west bengal
এবার ডিসেম্বরে শীতটা বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে না? ঝঞ্ঝার বাধা কেটে যেতেই পারদ চড়চড় করে নেমেছে। কোথাও ১১ কোথাও ১০ কোথাও ৮। উত্তরে হাওয়ার সেই দাপটের মধ্যেই কাগজ হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। কারও গলায় মাঙ্কি টুপি, কারও গলায় মাফলার, কেউ ঠিক মতো চলতে পারেন না, কেউ দাঁড়াতে পারেন না, কিন্তু এক টুকরো কাগজের কী মহিমা বলুন তো? কাগজ যে দেখাতেই হবে। আর না দেখালে…..
বাংলায় শনিবার থেকে শুরু হয়েছে SIR-এর শুনানি পর্ব। খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁরা আসছেন হাজিরা দিতে। কিন্তু চোখে লাগছে কখন বলুন তো? যখন এই শীতের মধ্যেও কাঁপতে কাঁপতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা তাঁদের পরিজনদের হাত ধরে আসছেন শুনানিতে। কেউ-কেউ আবার একাই আসছেন। কমিশন কিন্তু বলেছে, ৮৫ বছর বয়সী সব প্রবীণ নাগরিকদের হেয়ারিং বাড়িতে বসেই হবে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে হচ্ছে কি?
এই যে কাটোয়ার ঘটনা দেখুন…সেখানে ১০৯ বছরের মুক্তিবালা প্রামাণিককে কোনও মতে নিয়ে হাজির হলেন তাঁর নাতিরা। বৃদ্ধা ওই বৃদ্ধার ভোটার কার্ড অনুযায়ী তাঁর বয়স ৮৯। তবে পরিবার বলছে, তাঁর বয়স ১০৯। তবে বয়স ৮৯ হোক বা ১০৯, শীতের মধ্যে বৃদ্ধাকে আসতে হল শুনানি কেন্দ্রে।
নাতি পরিতোষ প্রামাণিক জানালেন, প্রশাসবকে বারবার বলার পরও কথা কানেই তোলেননি। এই খবর কানে পৌঁছতেই মহকুমা শাসক সুপারভাইজার স্বপন হালদার জানিয়েছেন,গোটা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
বাঁকুড়া পশ্চিমের জেলা। গরমে যেমন পারদ চড়ে হু-হু করে? শীতে ঠিক উল্টো। পারদ নামে তড়তড়িয়ে। কিন্তু আগেই বলেছি কাগজের মহিমা আলাদাই! তাই অসুস্থ বৃদ্ধ তারাপদ পাঁজা এসেছিলেন শুনানিতে। বয়সের কারণে শরীরে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন অসুখ। চলাফেরা সেভাবে করতে পারেন না। তবে শুনানিতে গিয়েও মিলল না সুরাহা। তাঁর দেখানো নথিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় এবারও তাঁর নাম তালিকাভূক্ত হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। আর তাতেই কার্যত ভেঙে পড়েছেন ওই বৃদ্ধ। এই সমস্যা যদি না মেটে তাহলে ফের হয়ত ছোটাছুটি করতে হবে তাঁকে।
হুগলিতে আসি। সেখানে গৌরী মান্নাকে আসতে হয়েছে শুনানিতে। বয়স তো তাঁর হয়েছে কিন্তু রয়েছে একাধিক রোগও। প্রথমে ব্রেন স্ট্রোক, তারপর হার্ট অ্যাটাক। গৌরীদেবীর এক মুহুর্ত চলে না ইনহেলার ছাড়া। লাঠি নিয়ে কোনও ভাবে হাজির হলেন শুনানি কেন্দ্রে।
এবার উত্তর ২৪ পরগনা জগদ্দলে লাইন দিয়ে বসে রয়েছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। কারও বয়স ৮৫,আবার কেউ ৯০ বছরের বয়স্ক। নাম যদি বাদ চলে যায়, সেই আতঙ্কে নিজেরাই আগেভাগে হাজির শুনানি কেন্দ্রে।
এত তো শুধু জেলা গেল। এবার কলকাতায় আসি। বেলেঘাটা ফুলবাগানের শুরকন্যা বিদ্যালয়ে এসেছিলেন তিয়াত্তর বছর বয়সী স্বপ্না ঘোষ। একা চলাফেরায় অক্ষম। সেই কারে বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন তিনি। স্বপ্না বললেন, চোখে কম দেখার জন্য ঠিকমতো ফরম ফিলাপ করতে পারেননি। নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাই শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে সমস্যা মিটিয়েছেন।
তবে শুধু জেলা নয়। কলকাতারও কিন্তু একই ছবি। SIR শুনানির প্রথম দিনে অ্যাম্বুলেন্স করে ফুলবাগানের শুরকন্যা বিদ্যালয়ে এলেন তিয়াত্তর বছর বয়সী স্বপ্না ঘোষ। ভাবুন অ্যাম্বুলেন্সে করে আসতে হয়ে তাঁকে কারণ একা চলাফেরায় অক্ষম তিনি। চোখে কম দেখার জন্য ঠিকমতো ফর্মফিলাপ করতে পারেননি। নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাই শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে সমস্যা মিটিয়েছেন।
কমিশন বলেছে, ৮৫ বছর বয়সীদের বাড়িতে থেকেই হবে শুনানি। কিন্তু ৭০-৭২-৭৫-৮০-৮২ এদের ক্ষেত্রে তো বয়সের ছাড় নেই! তাঁদের কি হবে? এমনকী বলা হয়নি অসুস্থদের বিষয়ও।
ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল। বারবার শাসকদলের প্রতিনিধিক দল হাজির হয়েছে কমিশনের দোরগোড়ায়। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের যাতে ঘরে বসেই শুনানি করা যায় তা নিয়ে সরব হয়েছে তারা। আবার উত্তরবঙ্গে বিজেপি খুলেছে হেল্প লাইন। শুনানিতে আসা ভোটাররা যাতে কোনওভাবে অসুবিধায় না পড়েন সেই কারণেই এই হেল্পলাইন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখানেই বলছেন, তাহলে বকলমে বিজেপিও কি মেনে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের একাংশ সত্যিই সমস্যায় পড়ছেন? এখন দেখার আগামী দিন শুনানি নিয়ে কমিশন নতুন কোনও নির্দেশ দেয় কি না।