TMC-BJP Sets Meme Fight: দেওয়াল নেই, তাই ভরছে ফেসবুকের ওয়াল! মোদী-মমতা-সেলিমদের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ এখন শুধুই Meme? – Bengali News | Meme Warfare: How CPM, TMC & BJP Are Using Social Media Humor as a Political Weapon
বাম আমলে দেওয়াল লিখনের বিরাট ধুম ছিল। কখনও ভোটের পিছনে ছোটা বামপন্থীদের বিকল্প বাম রাজনীতি করা নেতারা মনে করাতেন চিনের কথা। কখনও বা সুর থাকত ভিয়েতনাম দিয়ে। তবে এই সব আবদ্ধ থাকত দেওয়াল লিখনের মধ্যেই। পুলিশও টহল দিত। ‘চরমপন্থী’ লেখা দেখলেই ঘাড়টা গিয়ে আগে ধরত। এখন আর সেই সুযোগ নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক লেখাও রয়েছে, খোঁচা মারাও রয়েছে, তবে সবটাই ‘সামাজিক দেওয়ালে’ অর্থাৎ ফেসবুকের ওয়ালে।
In a world where interviews exist, one man chose NONE.
Guinness calls it ‘Performance Art.’ 🤩 pic.twitter.com/6CEkaK0Mer— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) November 13, 2025
কেউ কেউ বলছেন, লেখনীতেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। এই যেমন ১০ বছর আগেও প্রচারকাজে হোক বা ব্যঙ্গ করার কাজে, রাজনৈতিক লেখনী মানেই তাতে থাকবে ধার। কিন্তু এখন সেই ধার আর দেখা যায় না। খোঁচা রয়েছে, তবে অনেকটাই ব্যক্তিগত আক্রমণ। আর এই গোটা ব্যাপারটাতেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গী হয়েছে মিম। যা কৌতুকের আরেক রূপ। যার অস্তিত্ব শুধু সমাজমাধ্যমেই। দলীয় বিরোধিতা পেরিয়ে মিম হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার। সৃজনশীলতা রয়েছে, কিন্তু সঙ্গে রয়েছে এমন বার্তা, যা হয়তো না দিলেও হত।
কিন্তু এমনটা হল কেন? ফেসবুকের উত্থানের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রচারে ডিজিটাল পরিমণ্ডলে ঢোকার চেষ্টা করেছে প্রতিটি দল। কিন্তু সেই ডিজিটাল প্রচার কি এবার নেমে এল মিমের মতো ‘ধারহীন’ প্রচারমাধ্য়মে? নাকি সাধারণের কাছে পৌঁছনোর এটাই নতুন মাধ্যম?
তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মিমকে একটা ভারী হাতিয়ার হিসাবে দেখছেন। এদিন তিনি বলেন, ‘এটা দু’মুখো ধারালো তরবারি। যদি সুস্থ রুচি ও লিখন দিয়ে জনসাধারণের কাছে পৌঁছনো গেলে, তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কেউ বিকৃত আচরণ বা কুৎসিত মন্তব্য করলে সেটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ডিজিটাল প্রচারে এককালে মোদী ছিলেন ‘ফার্স্ট বয়’। বঙ্গ বিজেপি, তাঁরা পিছিয়ে নেই তো? বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়ার ইনচার্জ সপ্তর্ষী রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘গত কয়েক বছর ধরে দেখা গিয়েছে রাজ্যের দেওয়ালগুলি শাসকদলের দখলে। আর যেগুলি ফাঁকা, তাতে তাঁদের মালিকের আপত্তি। ফলত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে লিখন-মিম-রিলস আমরাও করে থাকি। শাসকদলের দুর্নীতি তুলে ধরতে সুবিধা হয়।’
মিম, ইন্টারনেট, সব শেষে রাজনৈতিক লিখন, বামেরা কি উহ্য় থাকতে পারে? বিধানসভায় তাঁদের কণ্ঠ ‘শব্দ-শূন্য’, কিন্তু সমাজমাধ্যম নয়। সেখানে তো ‘লাল-ঝড়’। মিমের দুনিয়া হোক বা রাজনৈতিক প্রচার। এমনকি, সাম্প্রতিককালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বার্তা। সবই নজর কেড়েছে সাধারণের। তাই ময়দানের চেয়ে সোশ্য়াল মিডিয়ায় যেন তাঁদের একটু বেশি প্রিয়, দাবি একাংশের। এদিন সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘অন্যান্য দল যখন বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে লোকবল রেখে এই প্রচার করছে, তখন সিপিএম একমাত্র দল যাঁরা প্রথম থেকে সাংগঠনিক ভাবে ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা করে।’