5 police stations: ৫ থানার পুর্নবিন্যাসে বিতর্ক! SIR আবহে চর্চার কেন্দ্রে ভবানীপুর, রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে বিরোধীরা – Bengali News | Controversy over reorganization of 5 police stations of kolkata, Bhawanipur at the center of debate amid SIR
শুরু হয়েছে চাপানউতোর Image Credit: TV 9 Bangla
বাকি অনেক থানা আছে যার এলাকা অনেক বড়। কিন্তু লোকবল কম। কিন্তু সেই থানাগুলির কোনও পুনর্বিন্যাস হল না। কিন্তু কেনই বা শুধু সীমানা বাড়ল আলিপুর এবং পার্কস্ট্রিট থানার? এর পিছনে কী কাজ করছে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? প্রশ্ন তুলছে বিরোধীদের একাংশ। চর্চা শুরু হয়েছে গতবারের বিধানসভা ভোটের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফল নিয়েও।
বদল কোথায় কোথায়?
এদিকে নতুন পুর্নবিন্যাসে ওয়াটগঞ্জ থানা এবং একবারপুর থানার অন্তর্গত একটি বড় অংশ আলিপুর থানার আওতায় আনা হল। ফলে আলিপুরের ব্যাপ্তি বেড়েছে। পাশাপাশি নিউ মার্কেটের একটি অংশ পার্কস্ট্রিট থানার আওতায় আনা হল। অর্থাৎ দুটিতেই সাউথ ডিভিশনের অধীনে আনা হল। আগে ওয়াটগঞ্জ পুরোটাই ছিল পোর্ট ডিভিশনের অধীনে। সেটি এখন আলিপুরের অন্দরে। আর নিউ মার্কেটের যে অংশ এল পার্কস্ট্রিটের অধীনে সেই অংশটি ছিল সেন্ট্রাল ডিভিশনের অধীনে। সবটাই এখন সাউথ ডিভিশনের অন্দরে।
কাজ করছে কোন অঙ্ক?
অন্য আঙ্গিকে দেখলে দেখা যাবে ওয়াটগঞ্জ থানা এবং একবারপুর থানার অন্তর্গত যে অংশ আলিপুরের আওতায় নিয়ে আসা হল সেটা ভাবনীপুর বিধানসভার মধ্যে পড়ে। আবার নিউ মার্কেটের যে সেন্ট্রাল ডিভিশন থেকে পার্কস্ট্রিট থানার হাত ধরে সাউথ ডিভিশনে আনা হল সেটাও ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। কারণ পার্কস্ট্রিটের আওতায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র পড়ে। তারমধ্যে একটি ভবানীপুর। অর্থাৎ ভাবনীপুর বিধানসভার মধ্যেই ছিলই এই এলাকাগুলি, সেগুলি এবার একছাতার তলায় অর্থাৎ সাউথ ডিভিশন। এখন একটি ডিভিশনের আওতায় আনার পিছনে কী ভোটের অঙ্ক কাজ করছে ? প্রশ্ন বিরোধীদের।
প্রাক্তন আইপিএস নজরুল ইসলামও বিষয়টি সহজ করে ব্যাখ্যা করছেন। বলছেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি পুলিশ মন্ত্রীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তিনি ভাবনীপুর থেকে দাঁড়াতে পারেন বলে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্ররে মধ্যে ভবানীপুর থানা এলাকা তো আছেই সঙ্গে আরও কিছু কিছু থানার কিছু কিছু অংশ এই বিধানসভার মধ্যে রয়েছে। কেটে-জুড়ে যে অংশগুলিকে যে থানার মধ্যে আনা হল সবই সাউথ ডিভিশনে।” কিন্তু এর সঙ্গে ভোটের কী সম্পর্ক? নজরুলবাবু করছেন বিস্ফোরক দাবি। বলছেন, “ভোট দেরি থাকলেও ভোটার তালিকা নিয়েই এখন চাপানউতোর। এক একটা বুথে যে সমস্ত মৃত মানুষের নাম আছে, নাগরিকই নয় এমন মানুষের নাম আছে, সেই নামগুলির বাদ যাওয়া ঠেকাতে তো প্রশাসনের মধ্যে শক্ত হাত যাঁদের তাঁদের লাগবে। বিএলওরা তো আছেন, কিন্তু জোর আছে পুলিশের। ভবানীপুর এলাকার মধ্যে যে এলাকাগুলি পড়ছে সেগুলি যদি খুব বেশি থানায় না থেকে অল্প থানায় থাকে, একই ডিভিশনে থাকে তাহলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে। আমার ধারনা এ ছাড়া এর পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে না।”
তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ যদিও বলছেন, এটা রুটিন প্রশাসনিক রদবদল। আইন-শৃঙ্খলা যাতে ঠিক থাকে তাই এটা করা হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ পাল্টা আক্রমণ করে বলছেন, “এতে ওদের রাজনৈতিক লাভ হতে পারে। কিন্তু রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার কোনও পরিবর্তন হবে না।”