'৫৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি,' বলে দিলেন কাঞ্চনের দ্বিতীয় স্ত্রী পিঙ্কি - Bengali News | What did actress pinky banerjee say about kanchan mallick's marriage with kanchan mallick - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘৫৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি,’ বলে দিলেন কাঞ্চনের দ্বিতীয় স্ত্রী পিঙ্কি – Bengali News | What did actress pinky banerjee say about kanchan mallick’s marriage with kanchan mallick

স্নেহা সেনগুপ্ত

‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’। এই বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করে দু’টি মন এক হয়েছিল। পর্দায় স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করতে-করতে একে-অপরকে মন দেওয়া-নেওয়ার পর্ব সেরে ফেলেছিলেন উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক (তখন বিধায়ক ছিলেন না) কাঞ্চন মল্লিক এবং অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়। পিঙ্কির কথা অনুযায়ী, সেই সময় কাঞ্চনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা দাসের। একাকী কাঞ্চন শুটিংয়ের ফাঁকে লাঞ্চের সময়ে খাবার না-খেয়ে সিগারেট খেতেন ঘনঘন। ধমকের সুরে পিঙ্কি এগিয়ে গিয়ে কাঞ্চনকে বলেছিলেন, “এ কী, আপনি খাবার না খেয়ে এগুলো কী খাচ্ছেন ছাইপাস!” সিনিয়র অভিনেতারা সে দিন পিঙ্কিকে বলেছিলেন, “তোর চেয়ে এত বড়, এ তুই কী বললি ভাই!” পিঙ্কি জানিয়েছিলেন, সোজাসাপ্টা কথা বলেন তিনি; উচিত কথা বলতে কুণ্ঠিত নন মোটেই। পিঙ্কির এই নির্ভীক মনটাকেই নাকি ভালবেসেছিলেন কাঞ্চন। বলেছিলেন, “চলো, নতুন করে শুরু করি।” শুরু করেন কাঞ্চন-পিঙ্কি। বিয়ে করলেন। সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে… এই প্রবাদ বাক্যটাই ছিল পিঙ্কির স্বপ্নে। তবে যে ঘর বাঁধতে চেয়েছিলেন, তা শেষমেশ পারেননি। তাঁর সংসার সুখের হয়নি। অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টোরাজের সঙ্গে স্বামীর ‘পরকীয়া’ ধরে ফেলেন করোনার সময়। পুত্র ওশ-ও সবটা জানে। সেই নিয়ে কম ঝামেলাও হয়নি কাঞ্চন-পিঙ্কির মাঝে। পিঙ্কি বলেন, “সব স্ত্রীর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক গোয়েন্দা। আমিও তাই ধরে ফেলেছিলাম।”

এই খবরটিও পড়ুন

১০ জানুয়ারি আইনি বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে কাঞ্চন মল্লিক এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিবাহ বিচ্ছেদের পরই চর্চিত প্রেমিকা অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে বিয়ে করেছেন কাঞ্চন মল্লিক। ৬ মার্চ সামাজিক বিয়ে। এই বিষয়টি দেখে কী বলছে কাঞ্চনের পুত্র বছর ১০-এর ওশ? বাবার আর একটা বিয়ে নিয়ে তার কি প্রতিক্রিয়া? প্রাক্তন স্বামীর নতুন বিবাহিত জীবন দেখে পিঙ্কির প্রতিক্রিয়াই বা কী? সবটা জানল TV9 বাংলা।

TV9 বাংলা: কেমন আছেন আপনি?

পিঙ্কি: আমাকে খারাপ রাখাটা খুবই কঠিন কাজ।

TV9 বাংলা: ওশ কেমন আছে?

পিঙ্কি: ওশ খুব ভাল আছে। ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশনালে পড়ে ওশ। ক্লাস ফাইভের ছাত্র। স্কুল নিয়েই ব্যস্ত আছে ও। কিছুদিন পরেই ওর ফাইনাল পরীক্ষা। পড়া, লেখাধুলো, গল্পের বই, ড্রামা ক্লাস, আমার সঙ্গে আড্ডা, লেকে হাঁটা, দু’টো পোষ্য মুরগি… সবটা নিয়ে দিব্যি আছে…

TV9 বাংলা: দু’টো পোষ্য মুরগি?

পিঙ্কি: আমরা আসলে ভেবেছিলাম, কী পোষ্য রাখা হবে বাড়িতে। আমি ওয়ার্কিং মা। সব তো লোকের ভরসায় ছাড়া যাবে না। তার উপর আমি কাউকে বন্দি রাখতে একেবারেই ভালবাসি না। অনেক ভেবে ঠিক হল মুরগি পোষা হবে।

TV9 বাংলা: আপনি এবং ওশ আপনার ঠাকুমা (কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের নাতনি পিঙ্কি। সাবিত্রীর দিদির ছেলের মেয়ে তিনি) সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেই থাকেন?

পিঙ্কি: হ্যাঁ, আমরা সেখানেই থাকি। সেই বাড়িটাতেই আমি বড় হয়েছি। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে নাটকের মহড়া দিতে দেখেছি চোখের সামনে। আমার ছোটবেলাটা জানেন তো খুব সুন্দর কেটেছে। আমি চাই আমার ছেলের ছোটবেলাটাও যাতে খুব সুন্দর কাটে।

TV9 বাংলা: ১৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সোশ্যাল মিডিয়ায় কাঞ্চন এবং শ্রীময়ীরের বিয়ের ছবি ছেয়ে গিয়েছে। দেখেছেন?

পিঙ্কি: দেখেছি। আমাকে দু’একজন পাঠিয়েছেন। আমি এই মানুষ দু’জনকে খুব সাধুবাদ জানাই যে, ফাইনালি তাঁরা সাহস জোগাড় করে বিয়েটা করেছেন। সম্পর্কের সত্যিটাকে স্বীকার করেছেন এবং পরিণতি দিয়েছেন। সব জিনিস কিন্তু ওরকম ঢেকে রাখা যায় না।

TV9 বাংলা: আপনার সঙ্গে বিবাহিত সম্পর্কে থাকাকালীনই তো শ্রীময়ীর সঙ্গে কাঞ্চনের সম্পর্ক…

পিঙ্কি: হ্যাঁ। আমি কিন্তু সব বুঝতে পারতাম। মহিলাদের, তথা বিবাহিতাদের এই শক্তি থাকে বুঝে নেওয়ার। আমারও ছিল। আর একটা কথা আমি বিশ্বাস করি, ধরে-বেঁধে ভালবাসা হয় না। সব স্ত্রীর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক গোয়েন্দা।

TV9 বাংলা: ওশ কী বলে?

পিঙ্কি: ওশ আমাকে বলেছে, যেটা বাস্তব, সেটা বাস্তব। আমরা নতুন করে জীবন শুরু করব। আমার সঙ্গে খুবই ভাল আছে ওশ। আমাকে একটাই কথা বলেছে, ‘মা, আমার কাস্টডি যেন তুমি পাও।’ পৃথিবীর কোনও শক্তি নেই যে, শক্তি ১৮ বছরের আগে ওশকে আমার থেকে সরিয়ে নেবে।

TV9 বাংলা: ছেলের কাস্টডি নিয়ে কাঞ্চন লড়াই করেননি?

পিঙ্কি: না।

TV9 বাংলা: ওশ কি বাবাকে ঘৃণা করে?

পিঙ্কি: না, ঘৃণা করে না। বাবাকে ক্ষমা করে দিয়েছে ওশ।

TV9 বাংলা: আপনার জীবনে আর কেউ আসবে না কোনওদিনও?

পিঙ্কি: এই রে, এটা কী করে বলি বলুন তো? আমার জীবনে গুরুত্বের জায়গাগুলো এক-এক করে বদলে যাচ্ছে। ওশের সঙ্গে আমি ফের ছোট থেকে বড় হচ্ছি।

TV9 বাংলা: ওশের দায়িত্ব নিয়েছেন কাঞ্চন?

পিঙ্কি: না। তবে যে টাকা ও দিয়েছে ডিভোর্সের সময়, সেটা আমি ওশের জন্যই খরচ করব।

TV9 বাংলা: কত টাকা পেলেন ডিভোর্স থেকে?

পিঙ্কি: আসলে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়েছে এটা নিয়ে। আমি আপনাকে বলছি, ডিভোর্সে আমি ৫৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি কাঞ্চনের থেকে। পুরোটাই ওশের প্রতিপালনের জন্য ব্যবহৃত হবে। ও টাকা আমার নয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *