Explained: পুতিনের পরেই সর্বোচ্চ রুশ রাষ্ট্রনায়ক, আনুগত্যের পুরস্কার পেলেন মেদভেদেভ? - Bengali News | Putin awards dmitry medvedev the order of merit for the fatherland - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: পুতিনের পরেই সর্বোচ্চ রুশ রাষ্ট্রনায়ক, আনুগত্যের পুরস্কার পেলেন মেদভেদেভ? – Bengali News | Putin awards dmitry medvedev the order of merit for the fatherland

কত নামেই না তাঁকে ডাকেন রাশিয়ানরা! কেউ বলেন, ‘ট্রাম্পের বুগিম্যান’, কেউ বলেন ‘ডিফেন্ডার অফ ক্রেমলিন’

সেই রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ-কে সোমবার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে সম্মানিত করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। মেদভেদেভের ৬০-তম জন্মদিনে তাঁকে ‘অর্ডার ফর মেরিট টু দ্য ফারদারল্যান্ড’ (“Order ‘For Merit to the Fatherland“) পুরস্কারে ভূষিত করলেন পুতিন।

গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের এই পুরস্কার দেয় মস্কো। এই পুরস্কারের বেশ কয়েকটি শ্রেণি-ও আছে। যত বেশি সম্মান, পুরস্কারের ‘ক্লাস’ ততই উঁচু। আছে ‘উইথ সোর্ড‘, ‘উইদাউট সোর্ড‘ ভাগ-ও। মেদভেদের কাছে এই পুরস্কারের চারটি ‘ক্লাস’-ই এখন বর্তমান। ২০০৫, ২০১৫, ২০২০-র পর ২০২৫-এও তিনি এই পুরস্কার পেলেন। এরকম নজির রাশিয়া জুড়ে আর কারও নেই।

Order of Merit for the Fatherland

এমনিতেই মস্কোয় এখন কার্যত উৎসবের পরিবেশ। ৮৭৮ বছরে সম্প্রতি পা দিল মস্কো শহর। সেই উপলক্ষ্যে ছুটিও ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ঐতিহাসিক রেড স্কোয়ারে চলছে হরেক রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হয়েছে আতশবাজির চোখ ধাঁধানো খেলা। এই সবের মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার দিলেন মেদভেদেভ-কে। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রাক্তন রুশ প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এমন কী করেছেন, যে তাঁকে পুতিন এত বড় পুরস্কার দিলেন?

medvedev putin

আসলে মেদভেদেভ তাঁর আনুগত্যের পুরস্কার পেলেন, বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। ন্যাটো ও আমেরিকার সঙ্গে যখন ক্রেমলিনের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে, যখন প্রতিদিনই ট্রাম্প রাশিয়ার উপরে বাড়তি শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন এই মেদভেদেভ-ই ক্রেমলিনের মুখরক্ষায় এগিয়ে এসেছেন। কখনও ট্রাম্পকে পাল্টা সোভিয়েত জমানার ‘ডেড হ্যান্ড’ অস্ত্রের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে জন্মদিনে ন্যাটো-র বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি – স্নায়ুর যুদ্ধে কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি মেদভেদেভ। আর তাই সম্প্রতি আবার ফিরে এসেছেন প্রচারের আলোয়। রাত-দুপুরে টেলিগ্রাম চ্যানেলে লম্বা পোস্টে আমেরিকাকে হুমকি, কখনও আবার পোল্যান্ডের পরামর্শকে ‘বোকার পরামর্শ’ বলে রাতারাতি ক্রেমলিনের মুখ হয়ে উঠেছেন মেদভেদেভ।

তাঁর হুঁশিয়ারির পর, রাশিয়ার দিকে একজোড়া পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিনকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। পাল্টা না থেমে থেকে মেদভেদেভ-ও পোস্ট করেন, ট্রাম্পের তাঁর নিজের দেশে তৈরি সিনেমা ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ দেখে শিক্ষা নিক। মেদভেদেভ জুলাই মাসে এই হুমকি দেন। ট্রাম্প পাল্টা মেদভেদেভের ‘বস’ পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ৫০ দিনের ডেডলাইন বেঁধে দেন। সেই ডেডলাইন কবেই শেষ হয়েছে, এখনও ইউক্রেনে দখল করা জমি ছাড়তে নারাজ মস্কো। যেমন বস, তেমনই ডেপুটি। রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ ট্রাম্পের এই ডেডলাইন-কে গুরুত্বহীন, নাটুকে বলে আখ্যা দেন। বলেন, ‘রাশিয়া ডোন্ট কেয়ার’।

medvedev

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যেমন অনেক কিছুই স্রেফ কথার কথা হিসাবে বলেন, মেদভেদেভ-ও অনেকটা তেমনই। ক্রেমলিন নিজেদের পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা নিয়ে যখন ঢাক পেটানোর পক্ষপাতী ছিল না, সেই সময়ও মেদভেদেভ ট্রাম্পের বাক্যবাণের মুখে একাই ক্রেমলিনের দুর্গ সামলেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তাঁকে নিয়ে লাগাতার খবর করেছে। তাঁর বক্তব্য ফলাও করে ছাপা হয়েছে মস্কোর বড় বড় কাগজে। রুশ-আমেরিকা সংঘাতের আবহে যখন বড় বড় সামরিক কর্তারা মুখ খুলতে দ্বিধাবোধ করছিলেন, তখন মেদভেদেভ কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করেই ন্যাটো ও ট্রাম্পকে আক্রমণ করে গেছেন।

তবে পুতিনের সঙ্গে মেদভেদেভের সম্পর্ক যে আজীবনই মধুর এমনটা মোটেও নয়! পুতিন টানা দু’বার প্রেসিডেন্ট পদে থাকার পর ২০০৮-এ মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সে সময় একটানা তিনবার একজনই প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। তাই অনেকে সে সময় ঠাট্টা করে মেদভেদেভ-কে পুতিনেরই ‘ছায়া’ বলে মন্তব্য করেন। এমনকী তাঁদের দুজনকে নিয়ে অজস্র রাজনৈতিক টিপ্পনিও চালু হয়। যেমন, একবার নাকি পুতিন ও মেদভেদেভ একসঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে মাংসের অর্ডার দেন। ওয়েটার জানতে চান, সঙ্গে কোনও সবজি বা ‘ভেজিটেবল’ লাগবে? তখন পুতিন নাকি বলেন, ‘ভেজিটেবিল’-ও মাংসই খাবে। বলাই বাহুল্য এখানে ভেজিটেবিল বলতে মেদভেদেভ-কে বোঝানো হয়েছে। মোদ্দা কথা মজাচ্ছলে হলেও মেদভেদেভ-কে ক্ষমতাহীন ও সম্পূর্ণ পুতিন-নির্ভর বলে বোঝানো হয়।

প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মেদভেদেভের বিরুদ্ধে বিলাসবহুল ও বেহিসাবি জীবনযাপনের অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। ২০১২-তে ফের মস্কোর মসনদে ফিরে আসেন পুতিন। পরে মেদভেদেভ প্রধানমন্ত্রীও হন। সেই সময় আবার বিশাল ভিলা-র ভিতরে মেদভেদেভের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার গোপন ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দেন বিরোধী দলনেতা। ২০২২-এ তাঁকে সরিয়ে দেন পুতিন। রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যানের মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয় তাঁকে। সমালোচকরা বলেন, গ্যারেজ পোস্টিং। তারপর বেশ কিছুদিন অন্তরালে চলে যান মেদভেদেভ। আবার রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তাঁর প্রত্যাবর্তন হয়। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায়। টেলিগ্রাম চ্যানেলে। রাতদুপুরে ইউক্রেন-কে কড়া হুঁশিয়ারি, ট্রাম্পের সমালোচনা- বাদ রাখেননি কিছুই। তারই কি এবার পুরস্কার পেলেন? উঠছে প্রশ্ন। সমালোচকরা বলেন, ‘মেদভেদেভ আসলে একজন বেঁটে, আক্রমণাত্মক মানসিকতার মানুষ। নিজেকে নেপোলিয়ন ভাবেন। পুতিনের ছায়ার আড়ালে নিজেকে শক্তিশালী ভাবতে ভালোবাসেন, কিন্তু আসলে নখদন্তহীন দুঃখী, জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত এক রাশিয়ান।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *