China Victorty Day Parade: এই প্রথম বিশ্বকে ৯ টা অস্ত্র দেখাল চিন - Bengali News | China revealed 9 weapons that have never been seen before in public - 24 Ghanta Bangla News
Home

China Victorty Day Parade: এই প্রথম বিশ্বকে ৯ টা অস্ত্র দেখাল চিন – Bengali News | China revealed 9 weapons that have never been seen before in public

Spread the love

চিনা প্রেসিডেন্ট গাড়িতে চেপে সেল্যুট করতে করতে এগোচ্ছেন। দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে লালফৌজ, পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে। কারও চোখের পাতাটুকু নড়ছে না, প্রত্যেকেরই হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। কেউ নিজের জায়গা ছেড়ে একচুলও সরছেন না। । লালপতাকা পতপত করে উড়ছে। জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন নিখুঁত কসরত চলছে সেনার।

ঠিক এভাবেই অন্তত ২০জন বিদেশি রাষ্ট্রনেতার সামনে নিজেদের সামরিক শক্তি দেখাল বেজিং। উপলক্ষ্য লালফৌজের ৮০-তম বিজয় দিবস। সরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার হল এই সেনা মহড়া। হাঁ করে দেখল গোটা বিশ্ব। হোয়াইট হাউসে বসে দেখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও। কট্টর মার্কিন বিরোধী দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত চিনে। কে নেই, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন, উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন। চিনা সেনার এই শক্তি প্রদর্শন যে আসলে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদেরই বার্তা, একথা আর বলে দিতে হয় না। ‘গুয়াম কিলার’ মিসাইল, ‘লয়াল উইংম্যান’ ড্রোন, রোবট নেকড়ে-র মতো এমন সব মারণাস্ত্র দেখাল পিপলস লিবারেশন আর্মি, যা দেখেশুনে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় আমেরিকার চেয়ে সম্ভবত ৫০ বছর এগিয়ে গেছে চিন। কী কী অস্ত্র দেখালেন চিনা প্রেসিডেন্ট? আসুন জেনে নিই।

১. ডিএফ ফাইভ সি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (DF-5C intercontinental ballistic missile)

সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে দূরপাল্লার মিসাইল। একবার ছুড়লে ২০,০০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়বে। মানে এককথায় গোটা বিশ্ব-ই এখন চিনের আক্রমণের পাল্লার ভিতরে চলে এল। এই মিসাইলকে ‘ডিফেন্স মিসাইল’ হিসাবেও ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে, যে কোনও পারমাণবিক হামলা রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে নতুন মিসাইলের। ডিএফ সিরিজের এই মিসাইল এতটাই বড় যে একে তিন টুকরোতে ভাগ করে লঞ্চপ্যাডে বয়ে নিয়ে যেতে হয়। এর চেয়ে বড় ও শক্তিশালী ইন্টার-কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আন্তঃ-মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বে কারও কাছে নেই, দাবি গ্লোবাল টাইমসের। গতিবেগ? প্রায় আলোর গতিবেগের কাছাকাছি। শব্দের চেয়ে ১০ গুণ জোরে উড়তে পারে। ফলে একবার বেজিং থেকে ছুড়ে দিলে অন্য দেশের পক্ষে একে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এই মিসাইলের ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ বা নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত করার ক্ষমতাও সর্বোচ্চ। ২০,০০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেটকে মুহূর্তে ধ্বংস করতে পারবে এই মিসাইল, দাবি গ্লোবাল টাইমসের। জল-স্থল-আকাশ- তিন জায়গা থেকেই পারমাণবিক হামলা চালানোর ক্ষমতাকে যুদ্ধের ময়দানে ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ বলে। চিনের নিউক্লিয়ার ট্রায়াডের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ডিএফ ফাইভ সি আইসিবিএম।

২. ডংফেং-৬১ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা Dongfeng-61

আমেরিকাকে শায়েস্তা করতে চিন এখন মিসাইল, বিশেষত দূরপাল্লার মিসাইলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চিনা সেনার প্যারেডে ১৬ চাকার ট্রাকে করে বয়ে আনা হল ডিএফ-৬১ আইসিবিএম। এটি মাটি থেকে ছোঁড়া যায় এমন একটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী মিসাইল। পাল্লা ১৫,০০০ কিলোমিটার। ৯০ থেকে ৬৫০ কিলোটনের ১০টি পরমাণু বোমা একসঙ্গে বহন করতে পারে। চিনের সামরিক শক্তি সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে খুব কড়াকড়ি। সরকারের অনুমতি ছাড়া কারও মুখ খোলার অনুমতি নেই। মার্কিন গোয়েন্দাদের অনুমান, চিনের কাছে এখন কমবেশি ১০০০ মতো পরমাণু বোমা রয়েছে। সেগুলি ছুড়তে ডংফেং-এর মতো মিসাইলের উন্নতিসাধন করা হচ্ছে। এই সিরিজের মিসাইলগুলির উৎপাদন ১৯৫০ থেকে সোভিয়েতের সাহায্যে করতে শুরু করেছিল বেজিং। মিসাইলটি ওজন ৮০,০০০ কিলো। গতিবেগ শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চিন থেকে একবার ছুড়লে আমেরিকাকে টার্গেট করতে পারে এই মিসাইল।

৩. গুয়াম কিলার (Dongfeng-26D intermediate range missile)

ডংফেং সিরিজেরই আরেকটি মিসাইল, ডংফেং ২৬ডি ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ মিসাইলের ডাকনাম ‘গুয়াম কিলার’। কেন এই নাম? আসলে চিন থেকে সরাসরি গুয়ামে মার্কিন সেনাঘাঁটিকে টার্গেট করা যায় বলে এই মিসাইলের এরকম নাম। ১৮০০ কিলোগ্রামের পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে আঘাত করতে পারে ৫০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের টার্গেটে। হাইপারসনিক মিসাইলটি গতিবেগও শব্দের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। ১২ চাকার ট্রাকে করে বয়ে আনা হয় প্যারেডে। ২০,০০০ কিলোগ্রাম ওজনের মিসাইলটি মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেম ‘থাড’ বা এইজিস-কে ধোঁকা দিতে পারে। ২০১৮-তে নির্মিত মার্কিন নৌসেনার বুকে ভয় ধরানো এই মিসাইল প্রথমবার দেখানো হল ২০২৫-এর সেনা দিবসে।

৪.ওয়াইজে ২১ বা কেরিয়ার কিলার অ্যান্টি শিপ মিসাইল (YJ-21 carrier killer” anti-ship missiles)

হাইপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল যেটা জল ও আকাশ – দুই জায়গা থেকেই ছোড়া যায়। ডেস্ট্রয়ার বা বম্বার জাহাজ ধ্বংস করতে পারে নিমেষে। জলে ভাসমান জাহাজ ধ্বংসে পারদর্শী বলে একে বিশেষ ভয় পায় মার্কিন নৌসেনা। ৪৫ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ১৫০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। জলের নিচেও হাইপারসনিক গতিতে ছুটতে পারে। ২০২২ থেকে চিনা নৌসেনা এই মিসাইল ব্যবহার করে। পাশাপাশি পিএলএ-র বায়ুসেনা তাদের এইচ সিক্স-কে বোমারু বিমানেও এই মিসাইল ব্যবহার করে।

৫. দৈত্যাকৃতির সাবমেরিন ড্রোন AJX-002

এবার আসা যাক ড্রোনের প্রসঙ্গে। চিনা সেনা মহড়াতে যে সব ড্রোন প্রদর্শন করেছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নির্ভর। অনেক ড্রোনের মধ্যে দৈত্যাকৃতির AJX-002 giant submarine drone নজর কেড়েছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। এই ধরনের ড্রোনকে এক্সট্রা লার্জ আন-ক্রিউড আন্ডার ওয়াটার ভেহিক্যাল-ও বলে। ৬৫ ফুটের এক একটা চালকবিহীন ড্রোন জলের নিচে চুপিসারে নজরদারি চালাতে এই ড্রোন ব্যবহার করে চিনা নৌসেনা। এই ড্রোন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। পাশাপাশি আর এক ধরণের স্টেলথ অ্যাটাক ড্রোন GJ-11-ও দেখানো হয় এই মহড়ায়। চিনারা একে লয়াল উইংম্যান বলে ডাকেন। কারণ, চিনা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে উড়ে শত্রুর উপরে হামলা চালাতে পারে এই ড্রোন।

৬. রোবট নেকড়ে

চিনা সেনা সামরিক প্রস্তুতি যে কতটা এগিয়ে গেছে, তার একটা উদাহরণ হয়ে রইল সেনার এই বিজয় দিবস। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার সৌজন্যে বিশ্ব হাঁ করে দেখল কল্পবিজ্ঞানের পাতা থেকে উঠে আসা রোবোটিক নেকড়ে বা ‘রোবোটিক উলভস’-কে। যন্ত্রচালিত রোবট, আকৃতিতে হিংস্র নেকড়ের মতো দাপিয়ে বেড়াল রাজপথে। এই রোবট দুশমনের মাটিতে পোঁতা মাইন নিষ্ক্রিয় করতে ওস্তাদ। সেই সঙ্গে বন্দুকধারী সেনার বদলে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এই নেকড়ে শত্রু নিধন-ও করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রথাগত সব অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও এআই নির্ভর অস্ত্র নির্মাণেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেজিং। যুদ্ধ হলে শত্রুর উপরে ড্রোন বৃষ্টি করে দাও- এটাই নতুন চিনের রণনীতি।

৭. এইচ কিউ ২৯-সহ ৬টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম HQ-11, HQ-20, HQ-22A, HQ-9C, HQ-19, HQ-29

৮০-তম বিজয় দিবসে অন্তত ৬টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও মাল্টি-লেয়ার অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম প্রকাশ্যে আনল লালফৌজ। বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছেই পূর্ণাঙ্গ অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম রয়েছে বর্তমানে। এইচ কিউ ১১, ২০, ২২এ, ৯সি, ১৯ ও ২৯- এরকম ৬টি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে সুষ্ঠুভাবে তিয়ানানমেন্ স্কোয়ারে প্যারেড করল পিএলএ। গ্লোবাল টাইমসের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে অভেদ রাখতে চিনা সেনার কাছে আধুনিকতম ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে যা লং, মিডিয়াম ও শর্ট রেঞ্জের যে কোনও মিসাইল হামলাকে রুখে দিতে পারে।

৮. টাইপ ০৫ উভচর ট্যাঙ্ক

স্থলযুদ্ধের জন্য তিনরকমের হাউৎজার কামান, কমব্যাট ভেহিক্যাল বা সাঁজোয়া গাড়ি ও জল-স্থলে চলে পারে এমন কামান দেখানো হল এই প্যারেডে। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে তেল না ভরে একটানা ৫০০ কিলোমিটার চলতে পারে এমন আধুনিকতম Type 05 amphibious combat vehicles প্রদর্শিত হল। ভিতরে ঠাসা থাকবে অস্ত্র। যাতে যে কোনও পরিস্থিতিতে সেনা চটজলদি যুদ্ধে নেমে পড়তে পারে।

৯. বিশ্বের প্রথম টু-সিটার ফিফথ জেনারেশন ফাইটার জেট J-20S (world’s first two-seat fifth-generation fighter jet)

চিনা যুদ্ধবিমানের কথা না লিখে এই প্রতিবেদন শেষ করা যায় না। মিলিটারি প্যারেডে J-16D, J-20, J-35A, J-20S and J-20A-মতো যুদ্ধবিমান উড়ে গেল একের পর এক। এদের মধ্যে জে-২০ এস নাকি বিশ্বের প্রথম দুই আসন বিশিষ্ট পঞ্চম জেনারেশনের যুদ্ধবিমান। দুই আসন রাখাই হয়েছে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে একজন পাইলটের কিছু হলে দ্বিতীয়জন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন ও মিশন শেষ করে আসতে পারেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামলা চালানোর দক্ষতার নিরিখে মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের সঙ্গে টক্কর দিতে পারে এই চিনা যুদ্ধবিমান।

সবশেষে বলা দরকার , চিনা সেনার যে গুচ্ছের সামরিক অস্ত্রেরই প্রদর্শন করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে তাই নয়, চিনা জানায় পুরুষ ও মহিলা সদস্যদের শৃঙ্খলা দেখেও তাজ্জব বনে গেছেন অনেকে। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন সেনা প্যারেডের। যা দেখে মনে হচ্ছে, যেন সিজিআই গ্রাফিক্সের সাহায্যে ভিডিওটি বানানো হয়েছে। একজন সেনার একটা পদক্ষেপেও কোনও ভুলচুক নেই। দেখেশুনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিপলস লিবারেশন আর্মির শৃঙ্খলাপরায়ণ মনোভাবই তাঁদের ভবিষ্যতের যুদ্ধে জিততে সাহায্য করবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *