Clubs of Jamuria: এক লাখ দশে খুশির জোয়ার! পাশেই স্কুলের রাস্তার অবস্থা বেহাল, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, মুখে কুলুপ জামুরিয়ার ক্লাবগুলির – Bengali News | 110,000 people are coming to the club for Puja, but the condition of the school next door is very bad, political tension
কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা? Image Credit source: TV 9 Bangla
আসানসোল: গত বছরের থেকে একধাক্কায় বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা। এবার পুজো কমিটিগুলির ঝুলিতে যাচ্ছে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি খুশি আসানসোলের জামুরিয়ার পুজো কমিটিগুলিও। বিরোধীদের অভিযোগ, এলাকায় থমকে আছে উন্নয়ন। বেহাল রাস্তা থেকে স্কুলের অবস্থা। ভেঙে পড়েছে স্কুলের পরিকাঠামো। নেই শিক্ষক। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও বেহাল। চরম ভোগান্তির ভোগান্তির শিকার জামুরিয়ার বাকশিমুলিয়া গ্রামের পড়ুয়া থেকে বাসিন্দারা। এখন পুজো কমিটিকে গুলিকে ১ লাখ ১০ হাজার দিতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছে হইচই।
জামুরিয়া বাক শিমুলিয়া গ্রামের মাধ্যমিক স্কুল নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। এই স্কুলে বাংলা ও হিন্দি দুই মাধ্যমেই পড়াশোনা চলে। বাংলা মিডিয়ামের শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন হিন্দি মিডিয়ামে। আর্টসের শিক্ষককে নিতে হচ্ছে বিজ্ঞানের ক্লাস। অঙ্কের শিক্ষককে পড়াতে হচ্ছে ইংরাজি বিষয়। অফিসের কাজকর্ম ছেড়ে অশিক্ষক কর্মীদেরও নিতে হচ্ছে ক্লাস। এমনই জগাখিচুড়ি অবস্থা জামুরিয়ার স্কুলে। ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। স্কুলের বাইরের সমস্যাতেও জেরবার পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রায় ৫০ বছরের পুরানো স্কুল, কিন্ত পাকা রাস্তা তৈরিই হয়নি কোনওদিন।
এই স্কুলে আসানসোল পুর এলাকার ২,৩, ১৩ ১৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও বারাবনি পঞ্চায়েতের বেশ কিছু এলাকা থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে আসে। কিন্তু খারাপ রাস্তা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যান্য সময় কোনক্রমে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে এলেও বর্ষার সময় তাদের প্রচন্ড অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। দ্বিভাষিক স্কুল হওয়া সত্ত্বেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল। দীর্ঘদিন নতুন কোনও শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। তারউপর অনেকেই অবসর নিয়েছেন। উল্টে ২০১৬ সালে নিয়োগ হওয়া দু’জন শিক্ষকের আদালতের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছে। ফলে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকদের হিন্দি মাধ্যমের ক্লাস নিতে হয় আবার হিন্দি মাধ্যমের শিক্ষকদের বাংলা। যার জেরে পড়েছে পড়াশোনার মান।
এ বছর মাধ্যমিকে মোট ৯২ জন পরীক্ষা দিলেও মাত্র ৪২ জন কোনওক্মতে পাশ করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানাচ্ছেন স্কুলে এখন মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫২৮। কিন্তু, দুই মিডিয়াম মিলে শিক্ষকের সংখ্যা ৯। আগে ছিল ১৭। যা কমতে কমতে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। জামুরিয়ার বিধায়ক হারেরাম সিং যদিও বলছেন, বাকশিমুলিয়া থেকে পরিহারপুরের ওই রাস্তা এবার সংস্কার হবে। ৭৮ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও এই দাবি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছে বিরোধীরা। এদিকে জামুরিয়ার যে ক্লাবগুলি পুজোর টাকা পাবেন তারা আবার এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকার লোকজন। তীব্র বিরক্তির সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা বুদ্ধদেব রজক বলছেন, “শুধু এখানে নয়, গোটা এলাকাতেই একই অবস্থা। বাক শিমুলিয়ার প্রধান রাস্তা যেখান দিয়ে পড়ুয়ারা স্কুলে যায় সেখানের রাস্তা মারাত্মক খারাপ। কোথাও কোনও উন্নয়ন নেই। এখন তো ক্লাবগুলিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে! কিন্তু মানুষের প্রাথমিক চাদিহাগুলি মেটানো হচ্ছে না। রাস্তাঘাট, স্কুলের উন্নয়ন হচ্ছে না। আমাদের প্রশ্ন আগে কি রাজ্যে দুর্গাপুজো হত না? সরকারের কাজ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া।”