Russia Earthquake: রাশিয়ায় ভূমিকম্পে কি ধ্বংস হয়ে গেল পুতিনের শখের ‘হরনেট নেস্ট’? – Bengali News | Russia’s Massive earthquake sparks Putin nuclear test fears
রাশিয়ার আইসিবিএম বিস্ফোরণই কি ডেকে আনল ভূমিকম্প-সুনামি?Image Credit source: TV9 বাংলা
বুধবার সকালে রাশিয়ার কামচটকায় ভয়াবহ ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। তারপরেই সুনামি। জোড়া আঘাত গিয়ে লেগেছে উপকূলবর্তী এলাকায় রুশ ডুবোজাহাজ ঘাঁটিতে। যার জেরে কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অত্যন্ত প্রিয় ও সাধের নিউক্লিয়ার-সাবমেরিন ঘাঁটিটি? বুধবার রাশিয়া কি কোনও পরমাণু বোমা পরীক্ষা করেছে ওই এলাকায়? নাকি রুশ সাবমেরিন ঘাঁটিতেই ঘটে গিয়েছে কোনও ভয়াবহ পারমাণবিক বিস্ফোরণ? যার জেরেই প্রথমে ভূমিকম্প ও পরে সুনামিতে ভেসে গিয়েছে আশেপাশের এলাকা? মার্কিন ও ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডে এই জল্পনা ছাপা হলেও রুশ প্রশাসন এই ঘটনার জন্যই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কেই দায়ী করেছে।
রাশিয়ার ভূূমিকম্প ও সুনামিতে শুধু পুতিনের দেশই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাপান, আমেরিকা সহ একাধিক দেশ। সেখানে আছড়ে পড়ছে উচু উচু সুনামির ঢেউ। তবে রাশিয়ায় এই ভূমিকম্প ও সুনামিতে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার কারণ হল ৮.৮ মাত্রার ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে রুশ সাবমেরিন ঘাঁটি!
রাশিয়ায় সুনামি।
গত ১০০ বছরে এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখেনি রাশিয়া। কুরিল দ্বীপের কাছে কম্পনের ফলে জন্ম নেওয়া সুনামিতে ভেসে গেছে কুরিলস্ক শহর। কিন্তু সুনামিতে শুধু সাধারণ নাগরিকদেরই ক্ষতি হয়েছে, এমনটা নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুশ ভিলয়ুচিনস্ক নৌসেনা ঘাঁটি বা পুতিনের আদরের ‘হরনেট নেস্ট’ কি এই সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
এই ঘাঁটিতে একাধিক পারমাণবিক জ্বালানিতে চলে, এমন রুশ সাবমেরিন মোতায়েন থাকত। এমনকী রাশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক, ২০২২-এ যাত্রা শুরু যে ‘কাইজার আলেক্সজান্ডার ৩’ সাবমেরিনের, সেটাও এই ঘাঁটিতেই মোতায়েন ছিল। সুনামির তীব্র ঢেউয়ের ধাক্কায় রুশ পারমাণবিক ডুবোজাহাজ ঘাঁটির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। ভিলয়ুচিনস্ক নৌসেনা ঘাঁটি রুশ সেনার অন্যতম প্রাচীন নৌসেনা ঘাঁটি। ১৯০৪ থেকে চালু রয়েছে এই সেনাঘাঁটি। সোভিয়েত জমানা থেকেই রুশ সেনার সবচেয়ে বিধ্বংসী ডুবোজাহাজ বা সাবমেরিন এখানেই থাকে। ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে পাঠানো সহজ বলে এখানেই পুতিন তাঁর ‘প্রিয়’ সাবমেরিনগুলি রাখার নির্দেশ দেন সেনাকে।
রুশ নৌসেনা ঘাঁটিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মতে, ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের এই জল্পনা মুচমুচে খবর ছাড়া আর কিছুই নয়। আন্তর্জাতিক জলবায়ু পর্যবেক্ষকরাও এই ভূমিকম্পকে প্রাকৃতিক রোষ বলেছেন। কিন্তু তাতেও জল্পনা থামছে না।
এক্স মাধ্যমের কয়েকটি ভাইরাল পোস্টে ও দাবি করা হয়েছে, রুশ অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ‘আরএস-২৮ সারমট’ ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) যাকে সাক্ষাৎ শয়তানের অবতার বলা হয়, সেই ‘স্যাটান ২’ বিস্ফোরণেও এতটাই তীব্র কম্পন অনুভূত হতে পারে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলি পর্যন্ত এই রুশ আইসিবিএম-কে ভয় পায়। এটি রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র। একসঙ্গে ১৫টি পারমাণবিক বোমা বহন করতে পারে ১১৬ ফুট লম্বা ও ২২০ টন ওজনের এই মিসাইল। আমেরিকা বা ইউরোপের যে কোনও দেশকেই স্রেফ ৩ মিনিটের মধ্যে একটা ‘স্যাটান ২’ ছুড়ে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া যায়। শুধু তাই নয়, রুশ ভাণ্ডারে ‘পোসাইডন’ নামের যে পারমাণবিক টর্পেডো রয়েছে, সেটারও ক্ষমতা রয়েছে, যে কোনও উপকূলবর্তী শহরে নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়ার।
‘আরএস-২৮ সারমট’ ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল
যদিও ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, কোনও রাশিয়ান মিসাইলের পরীক্ষা হয়নি বা আমেরিকাও হামলা চালিয়ে কোনও রুশ মিসাইল ভাণ্ডার ধ্বংস করেনি। টেকটনিক প্লেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের যে অংশে কম্পনের উৎপত্তি হয়েছে সেটা সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের ৯০ শতাংশই এখানেই জন্ম নেয়। ২০১১-তে জাপানে ৯.১ মাত্রার ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের পর বুধবার রাশিয়ায় ভূমিকম্পের তীব্রতাই সবচেয়ে বেশি। কম্পনের জেরে হাওয়াই, চিলি, জাপান ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় ৩ থেকে ১০ ফুটের উঁচু সুনামির ঢেউ তৈরি হয়।
