Earthquake in Russia: সুনামির ভয়ে ‘কাঁটা’ জাপান-আমেরিকা, হনলুলুর রাস্তায় তীব্র যানজট – Bengali News | Tsunami hits Russia, Japan after strongest Earthquake since 2011 in Pacific region
বেজিং: ২০১১ সালের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্প। বুধবার সকালে রাশিয়ায় এই তীব্র ভূমিকম্পের জেরে সুনামির ঢেউ দেখা গেল রাশিয়া ও জাপানে। রাশিয়ার সেভেরো-কুরলিস্কে বন্দর শহর থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। আবার আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার হিড়িক পড়েছে। যার জেরে রাস্তায় যানজট হয়েছে। আবার জাপানের ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র খালি করা হচ্ছে।
২০১১ সালের ১১ মার্চ তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৯। তীব্র ওই ভূমিকম্পের পর বিধ্বংসী সুনামিতে বিধ্বস্ত হয়েছিল জাপান। ৩০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত ঢেউ দেখা গিয়েছিল। উপকূলে ৫ কিলোমিটার ভিতর পর্যন্ত জলে এসেছিল জল। সুনামি বিধ্বস্ত ফুকুশিমায় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
জাপানে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে
জাপানের ওই তীব্র ভূমিকম্পের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সবচেয়ে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হল এবার রাশিয়ার কামচাটকা পেনিনসুলায়। প্রথমে বলা হয়েছিল, ভূমিকম্পের মাত্রা ৮। পরে তা বলা হয় ৮.৮। এই তীব্র ভূমিকম্পের পর একাধিকবার আফটারশক অনুভূত হয়। এমনকি, এই আফটারশকের মাত্রা ৬.৯-ও ছিল। তীব্র এই ভূমিকম্পের পরই সুনামি সতর্কতা জারি করতে দেরি করেনি জাপান ও আমেরিকা। হাওয়াইয়ের হনলুলুতে সুনামি সতর্কতা সাইরেন শোনা যায়। সেখানকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানের দিকে রওনা দেন। যার জেরে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, সেদেশের হোক্কাইডোর দক্ষিণ উপকূল এলাকা টোকাচিতে সুনামির ঢেউ দেখা গিয়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ১.৩ ফুট। ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সরানো হয়েছে। প্রায় ৪০০ হাজার কর্মী সেখানে কাজ করেন। তাঁদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমপ্লেক্সের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাপানের উপকূলবর্তী এলাকাগুলি থেকে সবমিলিয়ে ৯ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার উপকূলে সুনামির ঢেউ
রাশিয়ার সেভেরো-কুরলিস্কেও সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে সুরক্ষিত রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউ আসবে না নিশ্চিত হওয়ার পরই বাসিন্দাদের সেখান থেকে নামিয়ে আনা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। এদিকে, নিউজিল্যান্ড প্রশাসনও উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।
