Katwa: বডি ফুলে ঢোল, ভনভন করছে মাছি, গন্ধে টেকা যাচ্ছে না! ‘ও ঘুমোচ্ছে’, নির্বিকারে বললেন মা – Bengali News | Mother spends nights with deadbody of son in house people gets smell
ছেলের দেহের পাশে বসে মাImage Credit source: TV9 Bangla
কাটোয়া: ঘরের মধ্যে থেকে বেরচ্ছে পচা গন্ধ। দরজা বন্ধ। গত রবিবারের পর থেকে যুবককে আর দেখেনি কেউ। মা-ছেলের দেখা মিলছে না বলেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তবে ভিতরে ঢুকে যে এমন দৃশ্য দেখা যাবে, তা ভাবতেও পারেননি প্রতিবেশীরা। ঘরে ঢুকেই দেখতে হল হাড়হিম করা দৃশ্য। বর্ধমানের কাটোয়া শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুটকিয়াপাড়ার ঘটনা।
এক মেসবাড়িতে মা ও ছেলে থাকতেন। আজ, বুধবার সেই বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পেয়ে ঢুকে প্রতিবেশীরা দেখেন, বাড়িতে পড়ে রয়েছে মৃত ছেলের পচা দেহ। শরীর ফুলে উঠেছে। মেঝেতে পড়ে রয়েছে রক্ত। ছেলের দেহ আগলেই দু’দিন নিশ্চিন্তে রাত কাটালেন বৃদ্ধা মা! পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা বারবার জিজ্ঞেস করলে মা শান্তিলতা রায় উত্তর দেন, “ছেলে অসুস্থ, ঘুমোচ্ছে।” অথচ, ঘরের মধ্যেই পচন ধরা, ফুলে ওঠা দেহ পড়ে রয়েছে। চারপাশে মাছি ভনভন করছে।
মৃত যুবকের নাম বুদ্ধদেব রায় (৪২)। পেশায় গ্যারাজ মিস্ত্রি ছিলেন তিনি। প্রায় চার বছর ধরে মা শান্তিলতা দেবীকে নিয়ে ওই মেসবাড়িতেই থাকতেন তিনি। বুধবার দুপুরে ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ থেকেই খবর যায় কাটোয়া থানায়। পুলিশ ঘরের ভিতরে গিয়ে যা দেখে, তাতে আঁতকে ওঠে সবাই। উপুড় হয়ে মেঝেতে পড়ে রয়েছে দেহ, বেরোচ্ছে দুর্গন্ধ।
ঘরের এক কোণে বসে বৃদ্ধা মা বলে ওঠেন, “ছেলে বেঁচে আছে, অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। গায়ে ফোস্কা পড়েছে, হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।” ছেলে যে আর নেই, তা যেন বিশ্বাস করতেই রাজি নন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ, অন্তত দু’দিন আগে বুদ্ধদেবের মৃত্যু হয়েছে। পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া সোমা প্রামাণিক বলেন, “রবিবার বিকেলে ওকে শেষবার দেখেছি। তারপর আর চোখে পড়েনি। কিন্তু ওর মা যেভাবে এমন অবস্থাতেও স্বাভাবিক ছিলেন, আমাদের সেটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছে।”
ওই বাড়িটির মালিকের নাম মধুমালতী মণ্ডল। বাড়ির ঘরগুলি মেস হিসেবে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। দোতলায় পাঁচটি ঘরে ছ’জন এবং নীচতলায় দুটি পরিবার সহ মোট আটজন থাকেন। বাড়ি দেখাশোনা করেন দেবনারায়ণ মণ্ডল।
বুদ্ধদেবের বড় দাদা দীপক রায় বলেন, “ভাইয়ের টাইফয়েড হয়েছিল, চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু মা এমন অবস্থায় থেকেও আমাদের কিছু জানাল না, সেটা বুঝতেই পারছি না।” ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়েছে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, অন্তত এক-দু’দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে। পুরো ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গেছে এলাকায়। প্রতিবেশীদের অনেকেই বলছেন, শান্তিলতা দেবীরও হয়তো মানসিক চিকিৎসার দরকার।