হোমিওপ্যাথি ওষুধের শিশি দিয়ে ব্যালেন্সিং! অনন্য শিল্প বাংলার অধ্যাপকের
ড. প্রিয়দর্শী মজুমদার, ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইলেক্ট্রনিক্সের অধ্যাপক। যিনি গত বেশ কিছু সময় ধরে কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলের উপর তাঁর অনন্য ব্যালেন্সিং আর্টের জন্য বিশ্ব জুড়ে ভাইরাল হয়েছেন। তিনি অতি সম্প্রতি তাঁর নতুনধারার কঠিনতর ও আরও সূক্ষ ব্যালেন্সিং আর্টের মধ্যে দিয়ে আবার সবাইকে চমকে দিলেন। এবার তিনি ব্যালেন্সিং মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছেন সাধারণ বাজার চলতি হোমিওপ্যাথিক গ্লোবিউলের শিশি। যা আকারে একটি কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ বা আরও কম।
তিনি জানালেন, শিশিটির উচ্চতা ২ ইঞ্চিরও কম এবং ব্যাস ০.৩ ইঞ্চি। নিজের সৃষ্টিশীলতা এবং একাগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এখন একের পর এক সূক্ষাতিসূক্ষ বিন্দু ভারসাম্য শিল্প তৈরি করে চলেছেন। যা দেখে সকলের তাক লেগে যাচ্ছে। তিনি জানালেন যে হোমিওপ্যাথিক শিশিতে ভারসাম্য সৃষ্টি ও কোল্ড ড্রিঙ্কসের বোতলে ভারসাম্য সৃষ্টির মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না।
অত্যন্ত সূক্ষ পরিমাপ জ্ঞান এবং চরমস্তরের একাগ্রতা না থাকলে এত ছোট শিশির উপর ভারসাম্য বিন্দুতে পৌঁছানো কখনওই সম্ভব নয়। কারণ কোল্ড ড্রিঙ্কসের বা অন্য বড় আকারের বোতলের তুলনায় হোমিওপ্যাথিক শিশিতে ব্যালেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে ত্রুটির সীমা অত্যন্ত কম।
তিনি জানালেন, সম্প্রতি তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর বিন্দু ভারসাম্য শিল্প প্রদর্শন করেছেন এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন। শিক্ষকতা, বহুমুখী গবেষণা (তিনি জানালেন বিজ্ঞানের বিবিধ বিষয়ে দেশবিদেশের খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স, ওয়ার্ল্ড সায়েন্টিফিক, এলসেভিয়ার, আইওপি, স্প্রিংগার, চাইনিজ কেমিক্যাল সোসাইটি থেকে তাঁর বহু আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

তাঁর প্রধান প্রধান গবেষণামূলক কাজগুলি কনডেন্সড ম্যাটার ফিজিক্স, কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট, কোয়ান্টাম গেম থিওরি, ক্লাসিকাল গ্র্যাভিটি, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি এবং বায়ো-স্ট্যাটিস্টিক্স, পলিমার ফিজিক্স এবং পলিমার কেমিস্ট্রি, কম্পিউটার সিমুলেশন এবং মডেলিংয়ের মতো বৈচিত্র্যযুক্ত) ও বিন্দু ভারসাম্য শিল্পের বাইরে তিনি বিবিধ গাণিতিক ছন্দের কবিতা লেখেন, যা তাঁর নিজের লেখা বই এবং আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে শিক্ষামূলক ও আরও বহুমুখী বিষয়ে বহু প্রতিবেদন লিখেছেন তিনি, লিখেছেন স্নাতকস্তরের এবং আন্তর্জাতিক মানের বেশ কিছু পাঠ্য পুস্তকও। তিনি জানালেন এভাবেই তাঁর বহুমুখী সৃষ্টিশীলতাকে নিয়েই আগামীতে পথ চলতে চান।