গয়ায় সুচিত্রা স্বামীর পিণ্ডদানের পর পুরোহিতকে কী বলেছিলেন? – Bengali News | Suchitra sen performs pind dan of her husband in gaya
তিনি মহানায়িকা। লোকে ভাবত, যে শুটিং ফ্লোরে তাঁর দাপট ছিল। শুটিংয়ে লোকজনের সঙ্গে নাকি খুব একটা কথাও বলতেন না। নিজের মতো ক্য়ামেরার সামনে শট দিতেন, আর চেয়ারে বসে বই পড়তেন। দম্ভ নাকি তাঁর মুখশ্রী চুইয়ে পড়ত। তবে গসিপ ম্য়াগাজিনে এসব রটলেও, আসলে সুচিত্রা মোটেই এমন ছিলেন না। অন্তত, তাঁর সহঅভিনেতা ও সহঅভিনেত্রীদের সাক্ষাৎকারে তেমনটাই উঠে আসে। তবে তিনি মারাত্মক প্রফেশনাল ছিলেন, সেটা কিন্তু নানা ঘটনাতেই প্রমাণিত। এই যেমন, এক সিনেমার শুটিংয়েই সুচিত্রা পেয়েছিলেন, তাঁর স্বামী দিবানাথ সেনের মৃত্যু হয়েছে। সুচিত্রা কিন্তু খবর পেয়ে শুটিং থামাননি। বরং শুটিং শেষ করেই পৌঁছেছিলেন স্বামীকে শেষ বিদায় দিতে।
তবে এই গল্প, সুচিত্রার মুক্তি ও শান্তির সন্ধানের। তিনি মহানায়িকা। সাফল্য তাঁর পদচুম্বন করে। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি দূর থেকে দেখা এক উজ্জ্বল তারকা। কিন্তু সব পেয়েও, সুচিত্রা বেশিরভাগ সময়ই থাকতেন বিচলিত। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানতেন, সুচিত্রার সেই অস্থিরতার কথা।
সালটা সত্তর দশকের একেবারে গোড়ার দিক। তখন সুচিত্রা আলো আমার আলো ছবির শুটিং করছেন। সঙ্গে নায়ক উত্তম কুমার। হঠাৎই ইন্ডাস্ট্রি নানাবিধ কারণে ধর্মঘট শুরু হল। একে একে বন্ধ হতে থাকল ছবির শুটিং। ঠিক তখনই পরিচালক পিনাকী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বেনারসে রওনা দিলেন সুচিত্রা। পিনাকীকে সুচিত্রা জানিয়ে ছিলেন তিনি স্বামী দিবানাথের পিণ্ডদান করতে চান। সেই কারণেই পিনাকীকে সঙ্গে নিয়েই গয়া গিয়েছিলেন মহানায়িকা।
জানা যায়, গঙ্গার ঘাটে বসে সুচিত্রা সব আচার অনুষ্ঠান মেনে পিণ্ডদান সম্পন্ন করেন। ততদিনে বলিউডে মমতা ছবি মুক্তি পেয়ে গিয়েছে। হাজার মানুষের ভিড়ে সুচিত্রা যখন পুরোহিতের সঙ্গে পিণ্ডদান করছেন, তখন অনেকে তাঁকে দেখলেও, বিশ্বাস করতে পারেননি এটাই সেই সিনেপর্দার মমতা। সেদিন গঙ্গার ঘাটে দাঁড়িয়ে পুরোহিতকে একটা প্রশ্ন করেছিলেন মহানায়িকা, জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সত্য়িই কী এখানে আসলে মুক্তি পাওয়া যায়? সুচিত্রার প্রশ্নে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন পুরোহিত।
এরপর গয়া থেকে সোজা বেনারসে চলে আসেন মহানায়িকা। খবর পান ধর্মঘট উঠেছে, ফের ছবির শুটিং শুরু হবে। কিন্তু সুচিত্রা ফিরলেন না। পরিচালককে অনুরোধ করলেন, তাঁকে দুদিন একা ছেড়ে দিতে। তিনি কিছুটা সময় বেনারসেই থাকতে চান।