Digha: দিঘায় হোটেল ভাড়া বেশি নিলেই অভিযোগ জানাতে পারবেন পর্যটকরা, বাতিল হতে পারে লাইসেন্স – Bengali News | Hotels will be fined if they take extra price from tourists in Digha during Rath Yatra
রথের দিন ভিড় উপচে পড়তে পারে দিঘায়Image Credit source: TV9 Bangla
দিঘা: উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে বাড়ছে ভিড়। আর এ বছর প্রথম দিঘায় হবে রথ টানা। তাকে কেন্দ্র করে আরও ভিড় বাড়তে পারে বলে প্রশাসন মনে করছে। এই পরিস্থিতিতে দিঘার হোটেলগুলি যাতে লাগামছাড়া ভাড়া না নেয়, তার জন্য কড়া সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। লাগামছাড়া ভাড়া নিলেই হতে পারে লক্ষ টাকা জরিমানা। বাতিল হতে পারে হোটেলের লাইসেন্সও। আসন্ন রথযাত্রায় দিঘায় আসা পর্যটকদের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রথযাত্রায় দিঘায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। রথযাত্রা উপলক্ষে দিঘায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে মনে করছে প্রশাসন। এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে শহরের ১০০ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে সোমবার একটি বৈঠক হয়। পুরানো ও নতুন দিঘার হোটেল সংগঠনগুলির কর্মকর্তাদের নিয়ে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক তথা ডিএসডিএ-র চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু মাজি, দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌভিক চট্টোপাধ্যায়, নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিএসডিএ-র প্রশাসক নীলাঞ্জন মণ্ডল।
বৈঠকে হোটেলের বর্ধিত ভাড়া নিয়ে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হোটেলে পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত ঘরভাড়া নিলে দিতে হবে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা। শুধু তাই নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে হোটেলের অনুমোদন বাতিল থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হবে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি জানিয়েছেন, পর্যটকদের হোটেলের বর্ধিত ঘরভাড়া সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তিনি আরও বলেন যে, “পর্যটকদের সহায়তার জন্য চালু করা উন্নয়ন পর্ষদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর উল্লেখ করে ঘরভাড়ার দামের তালিকা হোটেলে হোটেলে ডিসপ্লে করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল ভাড়ায় কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। রথযাত্রার আগে হোটেল ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কথা নবান্নের বৈঠক থেকেও বলা হয়েছিল। এই প্রেক্ষিতে, সোমবার দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ (ডিএসডিএ) ভবন নিউ দিঘার জাহাজবাড়িতে হোটেল মালিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে প্রশাসন হোটেল ভাড়ার অনিয়ম রোধে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করে। উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যটকদের সুবিধার জন্য ডিএসডিএ-র হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর উল্লেখ করে হোটেলের ঘরভাড়ার দামের তালিকা প্রতিটি হোটেলে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই তালিকা হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে জমা দিতে হবে এবং তারা পরবর্তীতে ডিএসডিএ-তে জমা দেবে। ডিএসডিএ -র কর্মীরা যখন তখন যে কোনও হোটেলে সারপ্রাইজ ভিজিট করবে। ভাড়া নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং প্রয়োজনে হোটেলের অনুমোদন বাতিল-সহ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোটেলের ভাড়ার তালিকার নিচে পর্যটকদের অভিযোগ জানানোর জন্য হেল্পলাইন নম্বর এবং পোর্টালে লিঙ্ক দেওয়া থাকবে। যেখানে পর্যটকরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
দিঘায় ক্রমশ বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়
দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র স্বীকার করেছেন, সংগঠনের বাইরে থাকা কিছু হোটেলই ঘরভাড়া নিয়ে কালোবাজারি করছে এবং এর ফলে দিঘার পর্যটন ব্যবসার বদনাম হচ্ছে। তিনি বলেন, “সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হোটেলগুলি সরকারি নিয়ম মেনে চললেও, সংগঠনের বাইরে থাকা হোটেল এবং হোম স্টে-গুলি অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে। আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত।” তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন, তাঁদের সংগঠনভুক্ত প্রায় সব হোটেলেই ভাড়ার তালিকা টাঙানো হয়েছে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে পর্ষদের কাছে এই ভাড়ার তালিকা জমা দেওয়া হবে।
হোটেলগুলির বিরুদ্ধে পরিচ্ছনতার ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । ডিএসডিএ-র প্রশাসক নীলাঞ্জন মণ্ডল পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, হোটেল ব্যবসায়ীদের পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্য পৃথকভাবে মজুত এবং পর্ষদের গাড়িতে তা ফেলার নির্দেশ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হোটেল মালিকদের তরফে নিকাশি সংস্কার, মন্দিরকে ঘিরে বাড়তি ভিড়ের জেরে তৈরি হওয়া যানজট পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের মূল সড়কের সম্প্রসারণ-সহ যাবতীয় পরিকাঠামোর উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন আশা করছে আসন্ন রথযাত্রায় দিঘায় আগত পর্যটকদের সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করা যাবে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাবে এবং হোটেল ভাড়ায় কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্তে খুশি পর্যটকরা। তাঁরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে হোটেল ভাড়া নিয়ে কালোবাজারি কমবে।
