Rajnath Singh: আগামী দিনে যুদ্ধে গেম চেঞ্জার হবে ভারত, বোঝালেন রাজনাথ – Bengali News | Rajnath Singh congratulates DRDO and IIT Delhi for success in quantum communication
বিষয়টা জটিল। বেশ জটিল। তবে চিন, আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের হাতে গোনা কয়েকটা দেশ ছাড়া বাকি দুনিয়া যা করতে পারেনি, তখন ভারত যদি সেটা করে ফেলে, তাহলে তো আপনাদের জানাতেই হয়। ডিআরডিও এবং দিল্লি আইআইটি দেশে প্রথমবার কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে সফল হল। বিষয়টা কী? তার আগে বলে রাখা ভাল, এর ফলে লাভ কী হবে?
আজকের দিনে যোগাযোগের যে কোনও মাধ্যমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যেসব বার্তা আদান প্রদান করা হচ্ছে, তার সুরক্ষা। মানে, তৃতীয় পক্ষের হাতে সেসব যাতে চলে না যায়। যাকে বলে এনক্রিপশন। যেমন ধরুন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ। যে পাঠাচ্ছে আর যাকে পাঠানো হচ্ছে, তার বাইরে তৃতীয় কোনও ব্যক্তি এই মেসেজ পড়তে পারবে না। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও নয়। কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে এই এনক্রিপশন বা যে কোনও বার্তার গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টা কনভেনশনাল সিস্টেমগুলোর চেয়ে বহুগুণ বেশি সিকিওরড। ফলে, জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা যদি কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে যেতে পারি তাহলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় সামরিক তথ্য হ্যাকারদের হাতে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। আর সে কারণেই গোটা পরীক্ষায় ছিল ডিআরডিও। সেই কারণেই ডিআরডিও এবং দিল্লি আইআইটি-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
রাজনাথ বলেছেন, ভারত সুরক্ষিত কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনের যুগে প্রবেশ করল যা আগামী দিনের যুদ্ধে গেমচেঞ্জার হয়ে উঠবে। শুরুতে ১ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে সফল হয়েছেন আমাদের বিজ্ঞানীরা। এর হাত ধরে ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম ইন্টারনেট চলে এলে আমাদের মোবাইল, ল্যাপটপের সুরক্ষাও বহুগুণ বেড়ে যাবে। অপটিকাল ফাইবারের দরকার না হওয়ায় নানা রিমোট এলাকায় যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন কাজে আসতে পারে। বিষয়টা কী সেটা যদি একটু বলি। কোয়ান্টাম হলো পদার্থ বা শক্তির ক্ষুদ্রতম একক। যেমন আলোর ক্ষেত্রে আমরা বলে থাকি ফোটন কণা। কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে তথ্য সাধারণত ফোটন কণার মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তরিত হওয়ার সময় এই কণাগুলো এমন নিরাপদ এনক্রিপশন তৈরি করে যা কোনও থার্ড পার্টির পক্ষে ভাঙা বা অনুমান করা অসম্ভব। সমস্যা একটা আছে। সেটা হল কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন খুব জটিল ও খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে আমাদের দেশে মানুষের রোজকার জীবনে এর ব্যবহার শুরু হতে এখনও দেরি আছে। মনে করা হচ্ছে যে ভারতে রোজকার কাজে লার্জ স্কেলে কোয়ান্টাম যোগাযোগ ব্যবস্থা সেনার হাত ধরেই প্রথমে শুরু হবে।