Explained: ‘ড্রোনাচার্য’ ভারতের হাতের মুঠোয় এবার গোটা পাকিস্তান – Bengali News | In depth HALE Drones: India’s Next Aerospace Frontier
পাকিস্তানকে গুড়িয়ে দেবে ভারত?Image Credit source: TV9 বাংলা
ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, শত্রুর ডিফেন্স সিস্টেমকে তছনছ করতে পারলেই অর্ধেক যুদ্ধজয় সম্পূর্ণ। ইসলামাবাদে মোতায়েন চিনা ডিফেন্স সিস্টেমকে বেকুব বানিয়ে পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ভারত। এত গেল ২০২৫-এর কথা, পাকিস্তান যোগ্য জবাব পেয়েছে। কিন্তু বেয়াদপ পাকিস্তান কি এরপরেও আবার প্ররোচনা দেবে না? পাকিস্তানের চরিত্র বলছে, দেবে! ভারতের পায়ে পা লাগিয়ে আবার যুদ্ধ করতে আসবে। আর ভবিষ্যতে সেই সব যুদ্ধেও যাতে পাকিস্তানকে একইভাবে নাস্তানাবুদ করা যায়, তার জন্য প্রস্তুতিও প্রায় সেরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও বায়ুসেনা। ভারতের নয়া HALE ড্রোন প্রোগ্রাম কেন্দ্রের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পথে। এখন মনে হতে পারে, ভারত প্রায় রোজদিনই নতুন নতুন ড্রোন বানাচ্ছে ও পরীক্ষা করছে। HALE নিয়ে কেন বাড়তি কথা? তাহলে জেনে নিতে হবে কী বিশেষত্ব রয়েছে এই আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যাল বা UAV-র?
প্রথমেই বলে রাখা দরকার, নয়া HALE ভারতের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন সিস্টেম। HALE-র পুরো নাম, হাই অ্যাল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স ড্রোন প্রোগ্রাম। তৈরি করবে HAL বা হিন্দুস্তান এয়েরোনটিক্যাল লিমিটেড। নাম শুনেই আশা করি বুঝতে পারছেন, একটানা অনেকক্ষণ, অনেকটা উঁচুতে উড়তে পারবে এই ড্রোনগুলি। কতটা উঁচু? প্রায় ৪০ হাজার ফুট। মানে? মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বেশি উঁচুতে। উড়তে পারবেও বহুক্ষণ। কতক্ষণ? প্রায় ৪০ ঘণ্টা লাগাতার। কী কাজে লাগবে সেনার? বায়ুসেনার আধিকারিকদের মতে, নজরদারি, অতর্কিতে শত্রুর উপরে হামলা, তথ্য সংগ্রহ, শত্রুদেশের সেনার মুভমেন্টের ,ছবি তোলা, এমনকী শত্রুর মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে ভেঙে দিতেও কাজে লাগবে HALE ড্রোন সিস্টেম। এই সিস্টেম এতটাই আধুনিক হবে, যে একে প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করে এর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ছোট ড্রোন হামলাও করা যাবে। ব্যাটেলফিল্ডে এদের বলে ‘ড্রোন মাদারশিপ’।
এইরকম ড্রোনের রেঞ্জ বা উড়তে পারার ক্ষমতা ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি। মানে গোটা পাকিস্তানটাই চলে আসবে এই ড্রোনের নজরদারির আওতায়। সেই সঙ্গে, তথ্য সংগ্রহ বা ইন্টেলিজেন্স, নজরদারি ও রিকনেসেন্স বা শত্রুর শক্তির অনুমান– এই তিন কাজেই HALE প্ল্যাটফর্মের জুড়ি মেলা ভার। যুদ্ধের ময়দানে একে বলে ISR Capability বা ISR দক্ষতা। যে ড্রোনের এই ক্ষমতা যত বেশি, সেই ড্রোন তত বেশি ঘাতক। আমেরিকার এম-কিউ রিপার ড্রোন এরকমই একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন। এছাড়াও রয়েছে মার্কিন বায়ুসেনার গ্লোবাল হক। চিনের কাছে রয়েছে জিউশিয়ান এসএস-ইউএভি। এক একটি এইরকম ড্রোন পেটের ভিতরে বিস্ফোরক ছাড়াও ছোট ছোট প্রায় শখানেক ড্রোন নিয়ে উড়তে পারে দীর্ঘক্ষণ। টার্গেট স্থির করে দিলে হয় বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন নিজে হামলা করবে, নয়তো নির্দেশ দিলে পেটের ভিতর থেকে শয়ে শয়ে ড্রোনকে পাঠাবে। এবার শত্রুর ডিফেন্স সিস্টেম ক’টাকে নষ্ট করতে পারবে? দশটা? কুড়িটা? বাকি ৮০টা ড্রোন বিস্ফোরক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে আত্মঘাতী হামলা চালাতে। ঠিক এই কারণেই এই ধরনের ড্রোনের চাহিদা এখন ব্যাপক। আর তাই বিদেশি রাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার ভারতই এই HALE ড্রোন বানাচ্ছে।
দু ধরনের ড্রোন চায় বায়ুসেনা। একটি শুধু নজরদারির জন্য। আরেকটি নজরদারি ও হামলা- দুই চালাতেই সক্ষম হবে। HALE UAV-র আর একটা বড় গুণ শত্রুর রেডারকে ফাঁকি দিতে পারার দক্ষতা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধই হোক বা আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের যুদ্ধ হোক বা হালের অপারেশন সিঁদুর — সবক্ষেত্রেই একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গেছে। শত্রুর রেডারকে ফাঁকি দিতে পারার দক্ষতা যে দেশের যত বেশি রয়েছে, যুদ্ধে সেই দেশের তত অ্যাডভ্যান্টেজ। তাই পাইলটবিহিনী HALE ড্রোন তৈরির সময় বায়ুসেনার প্রাথমিক শর্তই দেয়, এগুলির শত্রুর চোখকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। গতবছর আমেরিকার জেনারেল অ্যাটমিকসের কাছ থেকে প্রথম দফায় যে ৩১টি HALE ড্রোন প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কেনার কথা হয়েছে, সেগুলির রেডারকে ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা মারাত্মক। সেই একই দক্ষতা থাকবে দেশীয় ড্রোন সিস্টেমেও। পাইলটরা দূর থেকে বসেও এগুলি চালাতে পারবেন। কুয়াশা, প্রবল বৃষ্টি বা অন্ধকারেও সমান গতি বজায় থাকবে। তাই দেশীয় MALE বা মিডিয়াম অ্যাল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স ড্রোন যেমন দৃষ্টি-১০ বা তাপস-বিএইচের চেয়েও এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নজর ভারতেই HALE সিস্টেম তৈরি করা ও অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা। ভারতের কাছে এখন বিদেশি MALE বা ‘মিডিয়াম অ্যাল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স ড্রোন’ বলতে ইজরায়েলের হেরন মার্ক ওয়ান ও টু রয়েছে।

এক একটি মার্কিন HALE প্ল্যাটফর্মের ‘এমকিউ-নাইন বি ড্রোন’ একাই ‘লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (LAC) বা আন্দামানের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি চালাতে যথেষ্ট। ভারতে এরকম ড্রোনের বাহিনী তৈরি হয়ে গেলে চিন-পাকিস্তান তো দূরের কথা, ইউরোপের অনেক শক্তিশালী দেশও ভারতের সঙ্গে আকাশযুদ্ধে এঁটে উঠতে পারবে না, বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। বায়ুসেনা দুরকমের ড্রোন চায়। একটি দূর থেকে বসে রিমোটের মাধ্যমে পাইলটরা চালনা করবেন, আরেকটি একবার গতিপথ নির্ধারণ করে দিলে সম্পূর্ণ পাইলটবিহীন অবস্থায় টার্গেটে নিখুঁতভাবে আঘাত হানবে।
কেমন দেখতে হবে ড্রোনগুলি? HAL-র প্রস্তাবিত ড্রোনের নকশা অনেকটা জেনারেল অ্যাটমিকসের এমকিউ-২০ অ্যাভেঞ্জার ড্রোনের মতো। আগে এদের বলা হত প্রিডেটর-সি। এদের পেটে থাকে ইন্টারনাল ওয়েপন স্টোরেজ। একজস্ট পাইপের আকার অনেকটা ইংরেজি এস-এর মতো দেখতে হয়। এটা করা হয়, ইনফ্রারেড ও রেডারে যাতে ধরা না পড়ে। সূত্রের খবর, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থা HAL এই সিস্টেম বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ২০৩৫-এর মধ্যে যুদ্ধের ময়দানে নামতে তৈরি হয়ে দেশি HALE সিস্টেম।
